কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার

জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুর জেলাকে সবুজায়নে ভূমিকা রাখা হর্টিকালচার সেন্টারটি এখন মাতৃগাছ গাছ শুন্য হতে চলেছে। গত জলাবদ্ধতায় কয়েক বছরে এ সেন্টারের অর্ধ শতাব্দীর পুরোনো প্রায় দেড় শতাধিক লিচু গাছ মারা গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরো অনেক প্রজাতির মাতৃগাছ। এতে এ জেলায় গাছের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয় হর্টিকালচার সেন্টার।  এখানে গাছের চারা উৎপাদনের জন্য রয়েছে একাধিক মাতৃবাগান। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন-চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ১০ একর জায়গায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। এর মধ্যে লিচুগাছের মাতৃবাগানটি সবচেয়ে বড় ও পুরোনো।

সরেজমিনে দেখা যায়,এই সেন্টারের ভিতর ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছ থেকে চারা উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হতো। কিন্তু গাছের গোড়ায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এর মধ্যে ১৩৭টি গাছ মারা গেছে। বর্তমানে মাতৃ লিচুবাগানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাগানে নেই কোনো পরিচর্যা। সারি সারি লিচু গাছ দাঁড়িয়ে আছে বিবর্ণ অবস্থায়। শুধু লিচুবাগান নয়, দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে পার্শ্ববর্তী আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য গাছের মাতৃবাগানও হুমকির মুখে রয়েছে। 

জামালপুর ছাড়াও শেরপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে এই হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা সরবরাহ করা হতো। তবে জলাবদ্ধতার কারণে এখন তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কার্যকর ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় হর্টিকালচার সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে আছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

মোহাম্মদ আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,জামালপুর হর্টিকালচারের পুরোনো খুব মূল্যবান ফলদ মাদারগাছ, যা থেকে চারা করা, নতুন গাছের জন্ম দেওয়া হয়-এ রকম শতাধিক গাছ মরে গেছে। যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল থাকত, জলাবদ্ধতা না হতো, তাহলে হয়তো এটি ঘটত না। 

জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, ‘হর্টিকালচার ১০ একর জায়গা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে। মাতৃ লিচুবাগানটি সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন। জলাবদ্ধতার কারণে ১৩৭টি গাছই নষ্ট হয়ে গেছে। যেখান থেকে আমরা অনেক পরিমাণে সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করতাম। এটি খুবই উন্নত মানের চারা ও উন্নত জাতের লিচু ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের চারা উৎপাদন ও সংরক্ষণ এলাকা পানিতে ডুবে আছে। লিচু ছাড়াও বিদেশি আমের বাগান, ড্রাগনবাগান এবং নতুন আনা কিছু আমের জাতও মারা গেছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান–২০ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

1

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহার

2

আনছার আলীর আম যাচ্ছে বিশ্ববাজারে

3

পানের বরজ যেন কৃষকের ‘নগদ ব্যাংক’

4

কৃষি সচিবের রুটিন দায়িত্বে নাসির- উদ-দৌলা

5

হাতিয়ায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

6

বাধ্যতামূলক অবসরে সচিব মিয়ান কৃষিতে রেখে গেছেন নিজস্ব বলয়

7

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

8

জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর হর্টিকালচার

9

গলদা -বাগদা চিংড়ি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উৎপাদন বাড়াতে হবে

10

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল

11

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে প্রোটিন খাদ্য দেবে সরকার

12

কাজিপুরে শত কোটি টাকার কম্বল বেচাকেনা

13

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

14

জায়গা সংকটে ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতি

15

প্রতি হেক্টরে ধান হবে ১৫ টন, গবেষণা করছে এসিআই

16

চলনবিলের সরিষার মধুকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দাবি

17

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

18

কৃষককার্ড ও উত্তরাঞ্চলে কৃষি হাব গড়ে তোলায় গুরুত্ব

19

টিস্যু কালচারে জি-নাইন কলার চারা উৎপাদনে সফলতা, সারা দেশে বা

20