কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পানের বরজ যেন কৃষকের ‘নগদ ব্যাংক’

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ পানের বরজ করে ভাগ্য বদলেছে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষকদের। বছরজুড়ে এখান থেকে নগদ টাকা আয় করা যায় বলে এটিকে তারা “নগদ ব্যাংক”বলে থাকে। এই চাষাবাদের মাধ্যমে এখঅনকার কৃষকরা এখন সচ্ছল স্বাভলম্বী হচ্ছেন। 

জানা গেছে, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মনোহরদীর পান একসময় বিদেশে রপ্তানি হতো। এ উপজেলার উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কমবেশি পান চাষাবাদ হয়। তবে এর মধ্যে লেবুতলা ও খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এই চাষাবাদের সাথে যুক্ত। এটিই তাদের আয়ের বড় উৎস্য। এ উপজেলার মাটি পান চাষবাদেও জন্য বেশ  উপযোগী। এখানে গয়ালস্বর, লালডিঙ্গি ও হাইব্রিড জাতের পাশাপাশি ঔষধি গুণসম্পন্ন মিষ্টি সাচি পানেরও চাষ হয়। এখানকার পানের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ পান সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। স্থানীয়রা জানায় এক সময় এ পান বিদেশে রপ্তানী হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
চলতি মৌসুমে মনোহরদীতে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। 

সাধারণত বাঁশের কাঠি ও খড়ের ছাউনি ব্যবহার করে পানের বরজ তৈরি করা হয় । শীতল ছায়াযুক্ত পরিবেশ থাকায় বরজে বাড়ির নারীরাও নিয়মিত কাজ করেন। এতে বাইরের শ্রমিকের খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হয়।

লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য পেশার মানুষও এখন পান চাষে ঝুঁকছেন। তারাকান্দী গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক বলেন, গত ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পান চাষ করছেন। ৪০ শতাংশ জমির বরজে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

রামপুর গ্রামের পান চাষি সুমন মিয়া জানান, ১০ বছর আগে মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে পান চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে বেশ ভালো ফলন পাচ্ছেন। আকারভেদে প্রতি কুঁড়ি (২৮৮০টি পান) পান ২ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিশেষ করে শীতকালে পানের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়ে যায়। তবে সরকারিভাবে ঋণের সুবিধা পেলে এই চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতো বলে তিনি জানান।

মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুনা আক্তার বলেন, ‘জিআই পণ্য হিসেবে পান একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এটি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার বর্জ্য না পুড়িয়েই বিদ্যুৎসহ বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মেগা

1

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

2

কৃষকের জমির ধান পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

3

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬০০ বস্তা সার জব্দ

4

চট্রগ্রামে ডুবে গেছে ১০ হাজার মৎস্যঘের

5

সিরাজগঞ্জে আউশের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

6

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

7

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

8

নড়াইলে বিল থেকে নির্বিচারে শামুক আহরণ

9

জেলে কার্ডের সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ

10

খাঁচায় মাছ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে চাষীরা

11

৩০০ উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত

12

জমজমাট মুলাডুলি মাছের আড়ত

13

পান হাটে দুই ঘণ্টায় ৭০ লাখ টাকার বেচাকেনা

14

ভাসমান হাটে জমজমাট সবজি কেনাবেচা

15

জি-৯ কলা চাষে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

16

সাতক্ষীরায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা

17

রাষ্ট্রপতির সাথে রুয়েট ও শেকৃবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

18

পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষিমন্ত্রীর সহযোগিত

19

বিষ দিয়ে ১২ লাখ টাকার মাছ নিধন

20