মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
চামড়া পুড়িয়ে ফিড তৈরির কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় গত তিন থেকে চার বছর ধরে এলাকায় একটি নামবিহীন কারখানায় মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরি করা হচ্ছে। এতে গরুর কাঁচা চামড়া, হাড় ও মাংসসহ বিভিন্ন কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। এসব কাঁচামাল বড় বয়লারে পোড়ানোর সময় তীব্র ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, যা বাতাসের সঙ্গে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয় করে তুলেছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
জানা যায়, ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় বিভিন্ন কোম্পানির ৮ থেকে ১০টি উৎপাদনশীল কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয় অনেক মানুষ। এখানে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার মানুষের বসবাস।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান খান বলেন,কারখানার ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের কারণে আমাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। বিশেষ করে শিশু ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। কষ্টে অনেকে জমি বিক্রি করে এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়রা কারখানা মালিককে দুষন প্রতিরোধে অনুরোধ করলেও কোন কাজ হচ্ছে না। তিনি বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দ্রুত কারখানাটি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্র্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক আব্দুর রবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কারখানার শ্রমিক মহসিন বলেন, “আমরা গরুর পরিত্যক্ত চামড়া পুড়িয়ে মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়ো করি। এরপর তা দিয়ে মাছ ও মুরগির খাবার তৈরি করা হয়।
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার পপি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কারখানাটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়