কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ 
ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা এখন সৌর সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকছে। অল্প টাকায় এ পাম্প বসিয়ে অনেকেই এখন সাশ্রয় করে আড়তি আয় করছেন। 

জানা যায়,ঝিনাইদহের বিভিন্ উপজেলার কৃষকরা তাদের চাষাবাদে ডিজেল চালিত নলকূপ দিয়ে সেচ দিতেন। এতে তাদের বাড়তি খরচ হতো। এসব কৃষকরা স্থানীয় একটি সংস্থার সহযোগীতায় ডিজেলের স্থানে সৌর সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন। এতে তাদের প্রতিটি সেচ পাম্প স্থাপন করতে এক রাখ ৭০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে।  
ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় এরইমধ্যে এমন ৩৬টি সোলার পাম্প বসানো হয়েছে। এগুলো হলো সদর উপজেলায় তিনটি, কোটচাঁদপুরে একটি এবং মহেশপুরে ৩২টি। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকায়ও সোলার পাম্প বসানো কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ)-এর বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় বসানো হচ্ছে এসব সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প।
সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকরা বলছেন, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থার তুলনায় সৌর বিদ্যুৎচালিত পাম্পে পরিচালন ব্যয় কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হবিবুর রহমান জানান,আগে নিজের ফুল চাষের জমিতে ডিজেল চালিত পাম্পের সাহায্য সেচ দিতেন। এখন তিনি সেখানে ষৌর সেচ পাম্প বসিয়েছেন। শুধু হাবিবুর রহমান নন, জেলার অনেক কৃষক এখন সৌর শক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। এ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প বসানোর মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে তাদের।

এদিকে সোলার পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে অনেক কৃষককে অনুদান দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরআরএফ। সংস্থাটির ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন বলে জানান কৃষক হাবিবুর। 

মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছেন।

ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনের পর তার তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন তিনি।

সৌল সেচ পাম্প স্থঅপন প্রসঙ্গে আরআরএফের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে এরইমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প বসানো হয়েছে। সামনে আরো ১০০টির বেশি পাম্প বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো। এখন সোলার পাম্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানিকগঞ্জে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ মরিচ চাষাবাদ

1

সমুদ্রবন্দরে ৩ ও নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

2

ভেড়া পালনে আশিকের সাফল্য

3

মিষ্টি কুমড়োর হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট

4

পাহাড়ে জুমের ধানকাটা শুরু

5

হাঁস পালনে আতাউরের ভাগ্য বদল

6

মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার বাগান

7

ঢাকার বর্জ্য না পুড়িয়েই বিদ্যুৎসহ বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মেগা

8

১৬ মাস ধরে বন্ধ আগুগঞ্জ সার কারখানা

9

জলবায়ু-সহনশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার আহ্বান স্পীকারের

10

হিমাগারের আলুতে ১৩৩ কোটি লোকসানের শঙ্কা

11

জলাবদ্ধতা দূর করতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

12

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দফা দাবি

13

যে কলেজে দেয়া হয় বাধ্যতামূলক কৃষি প্রশিক্ষণ

14

পুকুরে পাট জাগ দিতে বিঘায় নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা

15

বলদা খাল এখন ময়লার ড্রেন

16

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব : অর্থমন্ত্রী

17

মানিকগঞ্জে ৫ হাজার কৃষকের সর্বনাশ

18

অভয়নগরে খিরা-শসা যাচ্ছে সারা দেশে

19

রবিবার জাতীয় মৎস্য পক্ষে পুরষ্কার পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি

20