সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় উঁচু এবং পতিত জমিতে পেয়ারা চাষাবাদ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। বাগান থেকেই চড়া দামে পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে পেয়ারা। ভাল দাম,ফলনে অনেক চাষী এ চাষাবাদে ভাল টাকা আয় করে সচ্ছলতা অর্জন করেছেন।
জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেয়ারার চাষ করেছেন। জেলার রায়গঞ্জ, কাজীপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া যমুনার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও ব্যাপক পেয়ারা চাষ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
চাষাবাদ করা এসব পেয়ারা জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে থাই, কাজী, বারি-১, ২ ও ৩। তবে সিরাজগঞ্জে থাই ও কাজী জাতের পেয়ারা বেশি চাষ হয়। ব্যবসায়িক বাগান ছাড়াও স্থানীয়রা নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও অনাবাদী জায়গায় দেশি জাতের পেয়ারা গাছ লাগিয়ে থাকেন।
রাজশাহী ও নাটোরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পেয়ারা গাছের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করেন চাষীরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি এ ফলের চারা রোপণ করা হয়। তবে বাজারে বারোমাসি চাহিদা থাকায় সারা বছরই হাইব্রিড জাতের পেয়ারা চাষ হয়ে থাকে। উঁচু, দোআঁশ ও বালুযুক্ত মাটিতে এ ফলের বাগান ভালো হয়।
বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন,আমার পেয়ারা বাগানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এবার পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেয়ারা বিক্রি শুরু হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ লাভের আশা করছি।
সদর উপজেলার দত্তবাড়ী গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম (৫০) জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারও নিজের ১০ ডেসিমেল জায়গায় থাই জাতের পেয়ারা চাষ করেছেন। ভাল ফলন এবং দামে তিনি লাভবান হয়েছেন।
আরেক কৃষক শাহিন আলম ও সোবহান জানান, জমিতে প্রায় ২ গজ পরপর বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয়। এরপর সেই কাঠামো ঘিরে পেয়ারার চারা রোপণ করা হয়। চারা লাগানোর প্রায় ছয় মাস পর থেকেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। পেয়ারার ওজন প্রায় ১০ গ্রাম হলেই পলিথিন পরানো হয়, যাতে পশুপাখি ফলের ক্ষতি করতে না পারে। একটি বাগান থেকে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ফল পাওয়া যাওয়ার কারনে এ চাষাবাদে রাভবান হওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন,এবার পেয়ারা বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা পেয়ারা চাষে আরও উৎসাহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়