সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ
সাতক্ষীরা জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে তিলের উৎপাদন। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উপকূলীয় অঞ্চলটিতে তিল উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। লাভজনক হলেও প্রায় এক দশকে জেলায় ফসলটির আবাদ কমেছে অন্তত ৭৫ শতাংশ।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলায় ৭৬০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ করা হয়। ২০২৩-২৪ সালে এ পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৩১১ হেক্টরে। এরপর ২০২৪-২৫-এ ৩৬০ হেক্টর, ২০২৫-২৬-এ ২৬৫ এবং চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে তিলের আবাদ কমে মাত্র ২৪৫ হেক্টরে নেমে এসেছে। এ হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে অঞ্চলটিতে তিল চাষ কমেছে ৫১৫ হেক্টর জমিতে।
স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, সাত-আট বছর অন্য ফসলের পাশাপাশি তিল চাষ করেন তিনি। চলতি মৌসুমেও দেড় বিঘা জমিতে বারি-৫ জাতের তিল আবাদ করেছেন। এতে বিঘাপ্রতি খরচ হয় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় সাত-আট মণ। বাজারে প্রতি মণ তিল সাড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হয়। গত মৌসুমে দেড় বিঘা জমি থেকে তার লাভ হয়েছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. শিমুল মণ্ডল জানান, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে তিল উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। এ অঞ্চলে বারি-৫ ও ৬ জাতের সাদা তিল হেক্টরপ্রতি ১ হাজার ২০০ কেজি থেকে দেড় টন পর্যন্ত ফলানো সম্ভব। এতে হেক্টরপ্রতি খরচ হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি তিল ২০০-২২০ টাকা এবং প্রতি টন গড়ে ২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তা সত্ত্বেও কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষে আগ্রহের অভাব রয়েছে। তাই প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎসাহিত করা দরকার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিল মূলত উঁচু বা ডাঙ্গা দো-আঁশ মাটির ফসল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় জমিতে পানি জমে থাকে। তিলগাছে পানি জমলে গাছ মরে যায়, শুঁয়োএপাকা আক্রমণ করে এবং ছত্রাকে ডগা পচে নষ্ট হয়। ফলে লোকসান এড়াতে কৃষকরা তিল চাষ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। আবাদ বাড়াতে তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
কৃ/স/জয়