কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

একাঙ্গী চাষে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষক


মেহেরপুর সংবাদদাতাঃ 
কম সময়ে,অল্প খরচে ভাল লাভ হওয়ায় মেহেরপুরের চাষীরা একাঙ্গী চাষাবাদে ঝুঁকছেন। আদা জাতীয় এ ভেষজ চাষে নয় মাসে বিঘাপ্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ করে ৪-৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। যা চাষীদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে। ইতোমধ্যে এ জেলার অনেক চাষী এ চাষাবাদে বেশ লাভবান হয়েছেন। 

জানা গেছে, মেহেরপুরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের মসলা চাষ হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাঙ্গী চাষ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ১১ হেক্টর জমিতে এ ফসলের আবাদ হয়েছে। এটি ওষুধ প্রস্তুত ও প্রসাধনী তৈরির মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। মিরছে চড়া দামও। কম সময়ে ভালো লাভ পাওয়ায় এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষীরা।  

গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামের কৃষক ইশতিয়াক আহমেদ চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে একাঙ্গী চাষ করেছেন। এর আগে তিনি এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক এটি চাষ করেছিলেন। এতে সফলতা পেয়ে চলতি মৌসুমে তিনি আবাদের পরিধি বাড়িয়েছেন। ইশতিয়াক আহমেদ জানান, তিনি আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ বেছে নিয়েছেন। গত বছর এক বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৪ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও নয় মাসের মাথায় ৪ লাখ টাকার বেশি লাভ করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

ঝোরপাড়া গ্রামের কৃষক মাসুদ জানান, একাঙ্গী চাষ লাভজনকের সঙ্গে ব্যয়বহুলও। এতে প্রতিদিন ১৫-২০ জন শ্রমিক লাগে। প্রতিনিয়ত কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে হয়। বৃষ্টি বেশি হলে পচন রোগ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

গাংনী উপজেলার মনিরুল ইসলাম প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে একাঙ্গীর আবাদ করেছেন।  তিনি জানান,একাঙ্গী চাষে উদ্ভিদের পাতা ও গোড়া পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। টানা বৃষ্টির পর আমার জমিতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও ওষুধ দিয়েও স্বাভাবিক করা কঠিন হচ্ছে। ফলে শুধু লাভের কথা শুনে না বুঝে এলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, একাঙ্গী আদাজাতীয় একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এটি ওষুধ প্রস্তুত ও প্রসাধনী তৈরির মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাছ শিকারের টোপ এবং রান্নার সুগন্ধি ও স্বাদ বাড়াতে মসলা হিসেবে এর ব্যাপক কদর রয়েছে। এটি হজমের সমস্যা, ঠাণ্ডাজনিত রোগ ও ব্যথা উপশমেও বেশ কার্যকরী।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ জানান, একাঙ্গী একটি উচ্চমূল্যের ঔষধি ফসল। বাজারে এর চাহিদা ও দাম সবসময় ভালো থাকে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে দেড় লাখ টাকা খরচ করে এক বিঘা জমি থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবনায় পাওয়া যেতে পারে ২০ বছরের গ্যাস

1

গোয়ালঘর থেকে ১৩২ বস্তা সার জব্দ

2

যমুনার চরাঞ্চলে চাষাবাদে কৃষকদের সচ্ছলতা

3

৭০০ কলাগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

4

বনভূমি দখল রুখে দিল বন বিভাগ

5

রাজশাহীতে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

6

শৈলকুপায় অবৈধ সার মজুতে জরিমানা ও সার জব্দ

7

এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল

8

চরে আগাম আমন ধান কাটার ধুম

9

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে নতুন ডিজি আব্দুর রহিম

10

চাঁদপুরে জেলেদের ভিজিএফের চাল ‘আত্মসাতের চেষ্টা’

11

৭২৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ

12

চাঁদপুরে বিলুপ্ত বিরল মাছের অনন্য সংগ্রহশালা

13

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

14

বেদখল চট্টগ্রমের ৫৫ হাজার একর বনভূমি

15

সাঁওতাল নারীদের মাশরুম প্রক্রিয়াজাতে আয়ের পথ করে দিচ্ছে হাবি

16

পাথরঘাটায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

17

চলনবিলে কচুরিপানা অপসারণ শুরু

18

উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডে প্রণোদনা পাচ্ছেন ১১০৩৬৪ কৃষক- কৃষি

19

শিয়াল হত্যায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

20