কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফিড-ওষুধ-বিদ্যুতের খরচে দিশেহারা খামারীরা

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ কুড়িগ্রামে লাগাতার ফিড (মুরগির খাদ্য), ওষুধ এবং বিদ্যুতের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে পোলট্রি খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বাড়তি খরচে খামার পরিচালনা করে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক খামারী লোকশানে পড়েছেন। অনেকেই দীর্ঘদিনের খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এতে এই খাতের সাথে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

জানা যায়,এ জেলায় ২৭৫টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে দিনে প্রায় ২ লাখ ডিম উৎপাদন ও বেচাকেনা হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব ডিম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। ডিম একটি লাভজনক ব্যবসা হলেও বর্তমানে খামারিরা রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায়।

পোলট্রি খামারীরা বলছেন,বর্তমানে তাদের  একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ লাগে সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা। বাজারে কখনো সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯ টাকা থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। ফলে বেশিরভাগ সময় লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাসে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা। ফলে এর সাথে যুক্ত হাজারো মানুষ রয়েছেন কাজ হারানোর আশঙ্কায়। সব খরচ মিটিয়ে খামারিদেও কোন লাভ থাকছে না।

 উল্টো বাড়তি খরচের কারনে তাদেও দেনার দায়ে জড়াতে হচ্ছে। 
ফুলবাড়ী উপজেলার খেজুরের তল এলাকার মুন্সি পোলট্রি ফার্মের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম বলেন, খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগি রয়েছে। ফিড, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে সাড়ে আট থেকে ৯ টাকা। অথচ বাজারে অনেক সময় সেই ডিম ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ সময়ই লোকসানে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

এই খামারের কর্মচারী একরামুল হক বলেন, ভোর থেকে শুরু করে দিনভর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয় তাদের। কিন্তু ডিমের দাম কমলেই মালিকেরা লোকসানে পড়েন, আর তার প্রভাব গিয়ে পড়ে কর্মচারীদের চাকরির ওপর। লোকসান বাড়লে কর্মী কমিয়ে দেওয়ায় তারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ এই বিপুল খরচের বিপরীতে বাজারে ডিমের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন শ্রমিকরা।

কুড়িগ্রাম জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও খামারি মালিক লিয়াকত আলী রিটু বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ফিডের ও ঔষধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা, সরকার খামার পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাণিজ্যিক বিলের পরিবর্তে কৃষি রেটে বিল নির্ধারণের ব্যবস্থা করা। নাহলে খামারিদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে পথে বসবে তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বমুখী দামের কথা স্বীকার করে জানান, সরকার ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির কথা চিন্তা করছেন। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে খামারিরা উপকৃত হবেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাছ চাষে আবদুল্লাহর সাফল্য

1

৮ লাখ টাকার চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

2

বাগান থেকে তানজিলার মাসিক আয় দুই লাখ টাকা

3

নৌকাসহ ১০৮ বস্তা সার জব্দ

4

কাজে আসছে না কোটি টাকার ডাস্টবিন

5

সীড এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি মাসুম, সম্পাদক সোপান মালিক

6

মালচিং প্রযুক্তিতে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

7

চা বাগান থেকে দুই অজগর উদ্ধার

8

জুলাইয়ে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

9

সমুদ্রবন্দরে ৩ ও নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

10

বৃষ্টির অভাবে আমন মাঠ ফেটে চৌচির

11

৩৩ কেজি বাঘাইড় বিক্রি হলো ৫৬ হাজারে

12

পিরোজপুরে যৌথ অভিযানে ৩টি অবৈধ বাঁধা জাল ধ্বংস

13

মাগুড়ার পাটকাঠি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

14

সরু চাল উৎপাদনে ধস নেমেছে

15

কাজিপুরে সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ

16

তিন বছরে অগ্রগতি ২২ শতাংশ, এবার কি গতি ফিরবে পার্টনারে?

17

ইলিশের ডিমের কেজি ৬ হাজার টাকা

18

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবার

19

ভাসমান পেয়ারার বাজার দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

20