কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বৃষ্টির অভাবে আমন মাঠ ফেটে চৌচির

নোয়াখালী সংবাদদাতাঃ 
নোয়াখালীতে পানি সংকটে বিভিন্ন মাঠের শত শত হেক্টর আমন ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। প্রচন্ড রোদে ঝলছে গেছে ধানের খেত। বৃষ্টি না হওয়ায় সংকট আরো বেড়েছে। এমন অবস্থায় ফসল উৎপাদনে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষীরা। 

জানা যায়,এ বছর জেলায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে।  এসব জমিতে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫০ টন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা। কৃষখরা অনেক আশা নিয়ে এই ধান চাষাবাদ করেছেন। প্রথম দিকে ধান গাছের বেশ বাড়ন্ত দেখা দিলেও অনাবৃষ্টির কারণে মাঠে মাঠে ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড রোদে ধান গাছ ঝলছে গেছে। 

কৃষকরা জানান, এ বছর জুলাইয়ে অতিবৃষ্টির কারণে তারা নির্দিষ্ট সময়ে আবাদ করতে পারেননি। আবার যখন গাছে ধান আসার কথা, তখন বৃষ্টি না থাকায় দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা। বিশেষ করে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টিই হয়নি। ফলে খেতের ফসল ঝলসে গেছে, মাটি ফেটে গেছে। কেউ কেউ সেচ দিয়ে কিছু ফসল রক্ষা করতে পারলেও বেশির ভাগ কৃষকই তা পারেননি। আশপাশের খাল ও পুকুরেও নেই পর্যাপ্ত পানি। এ পরিস্থিতিতে ফলনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেক চাষী।

সুবর্ণচরের কয়েকটি ইউনিয়নের মাঠে দেখা যায়, জমির মাটি ফেটে চৌচির অবস্থা, ধানগাছ ঝলসে গেছে। প্রথম দেখায় মনে হয়, শত্রুদের দেয়া আগুনে পুড়েছে এসব ধান।

আমান উল্যাহ ইউনিয়নের কৃষক মো. কামাল উদ্দিন জানান, তিনি এ বছর আট একর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে অন্তত দুই একর জমির ফসল সম্পূর্ণ ঝলসে গেছে। বাকি ছয় একর জমিতে ধানের পেটে কিছু নেই। লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছে এগুলো চিটাই পরিণত হবে। তিনি জানান, ফলন ভালো হলে এ বছর অন্তত ৪০০ মণ ধান উৎপাদন হতো তার জমি থেকে। এখন এর অর্ধেকও হবে না। এতে তিনি যেমন লোকসানে পড়ছেন, তেমনি পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে তার।

কথা হয় সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা গ্রামের কৃষক কৃষক মো. মুরাদ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি এবার সাত একর জমিতে রোপা আমন আবাদ করেন। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি না থাকায় তার সাড়ে তিন একর জমির ফসলই ঝলসে গেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তাতেও আশানুরূপ ফলন নেই। আবাদে তার অন্তত সোয়া ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ব্যাংক ঋণ ও সুদে টাকা নিয়ে চাষ করা ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

শুধু কৃষক মুরাদের খেত নয়, এমন দশা চোখে পড়ে সুবর্ণচর উপজেলার সব ইউনিয়নের মাঠেই। এছাড়া জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও হাতিয়া উপজেলার মাঠের চিত্রও প্রায় একই।

নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, ভবিষ্যতে পানির প্রাকৃতিক উৎস বাড়ানো ও লবণসহিষ্ণু জাত আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ব্লক ওয়ারি গ্রুপের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত সমাবেশ করা হচ্ছে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি ও লবণসহিষ্ণু জাতগুলোতে ফলন তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা এতে কম আগ্রহী। এর পরও বারবার কৃষককে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষণা বিভাগের সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করে নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর আমনে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের রবি মৌসুমে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিবগঞ্জে সারবোঝাই দুই ট্রলি আটক

1

দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

2

কৃষকের ৬০ শতক জমির কাঁকরোলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্ত

3

পাখির ডিম দেখতে পার্কে ভিড়

4

চট্রগ্রাম সার কারখানা আবার বন্ধ

5

আগাম শিম চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

6

কুমিল্লায় আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা

7

৪৫ দিনেই মুরগির ওজন হবে ১ কেজি

8

চায়না ম্যাজিক জাল ধ্বংস

9

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

10

পানের বরজ যেন কৃষকের ‘নগদ ব্যাংক’

11

সাভারে ঘোড়া জবাই করে রেস্তোরাঁয় মাংস বিক্রি

12

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

13

জলাবদ্ধতা দূর করতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

14

সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক

15

বৃষ্টি না থাকায় ফসল বাঁচাতে সেচেই ভরসা

16

৪২ হাজার রিল কারেন্ট জাল জব্দ

17

চরাঞ্চলে ৫০০০ তালবীজ বিতরণ

18

খাল খননে ফিরল কৃষির সুদিন

19

দুপচাঁচিয়ায় আধুনিক আদা চাষে নতুন পথ

20