কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাগান থেকে তানজিলার মাসিক আয় দুই লাখ টাকা

মাদারীপুর সংবাদদাতাঃ 
সখ করে ঘরের বারান্দায় করেছিলেন একটি ছোট বাগান। সাফল্য পেয়ে সেই বাাগাান রুপ দেন বড় পরিসরের ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান। যেখানে রয়েছে হাজার হাজার নানা প্রজাতির গাছ। যা বিক্রি কওে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ২ লাখ টাকা। এভাবে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নাজিলা আখি নামে এক নারী। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দা। 

জানা যায়,এ উদ্যোক্তা একসময় ঢাকায় চাকরি করতেন। ২০১৯ সালের দিকে ঢাকার একটি ডিজাইনার হাউসে কাজ করার সময় গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে ঘরের বারান্দায় ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান গড়ে তোলেন। তখনো ভাবেননি, এই শখই একদিন তার পরিচয়ের বড় অংশ হয়ে উঠবে।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তানজিলা। হোম কোয়ারেন্টিনে তাকে আলাদা একটি ঘরে থাকতে হয়। স্বামী-সন্তানের কাছেও যেতে পারতেন না তিনি। নিঃসঙ্গ সেই সময়ে তার সঙ্গী হয়ে ওঠে বারান্দার গাছগুলো। গাছের পরিচর্যা আর সেগুলোর সঙ্গে সময় কাটানো থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। ধীরে ধীরে গাছ সংগ্রহের আগ্রহ বাড়তে থাকে।

চাকরি ছেড়ে পুরোদমে তিনি এ কাজে মনযোগ দেন। তার স্বামী চাতুরি করায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা নানা প্রতিবন্ধকতায় তিনি। 
পরবর্তীতে তিনি পরিবারের সহযোগিতা আর নিজের নিরলস পরিশ্রমে শিবচরে পারিবারিক আট শতাংশ জমিতে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাছের সংগ্রহ, ক্রেতার আগ্রহ এবং ব্যবসার পরিধি। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা সেই উদ্যোগ এখন তার আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ফিলোডেনড্রন, মনস্টেরা, অ্যাগলোনিমা, সিঙ্গোনিয়াম, বিভিন্ন জাতের থাই লিলি, অর্কিড, ফিটোনিয়া, পারলার পাম, বেগোনিয়া ও পথোসসহ নানা ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট। সব মিলিয়ে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে বলে জানান তানজিলা। তার হিসাব অনুযায়ী, বাগানে থাকা গাছের চারার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। বর্তমানে তার এই উদ্যোগে কাজ করছেন দুজন কর্মচারী।। এ বাগান থেকে মাসে তাঁর আয় প্রায় দুই লাখ টাকা, কোনো কোনো মাসে যা তিন থেকে চার লাখ টাকায়ও পৌঁছায়।

উদ্যোক্তা তানজিলা আখি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গাছের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেখান থেকেই গাছ সংগ্রহ শুরু করি। একটু একটু করে গড়ে তুলেছি ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি। ব্যবসা শুরু করার পর নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা এসেছে। সবকিছু অতিক্রম করে এখন নিজের একটি বাগান হয়েছে। এখান থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছি। আমার এখানে দুজন কর্মচারী আছেন। আগামী মাস থেকে আরও একটি বাগান শুরু করতে যাচ্ছি। 

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, ‘এ ধরনের তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবে। শিবচরের অধিকাংশ তরুণ জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমান। এ পরিস্থিতিতে কৃষি ও নার্সারিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণেরা যাতে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন, সে জন্য তাঁদের সর্বোচ্চ উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

কৃ/স/জয়



মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাঁচামাল সংকটে বন্ধ ডিএপি সার কারখানা

1

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৯ টন জিরা জব্দ

2

ইসলামপুরে পাট চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

3

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধা

4

বাগানে ঝুলছে ২০ জাতের আঙুর

5

ঢাকার বর্জ্য না পুড়িয়েই বিদ্যুৎসহ বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মেগা

6

ক্ষুদ্র টিস্যু থেকেই উৎপাদন হচ্ছে রোগমুক্ত চারা

7

মধ্যনগর সীমান্তে নৌকাসহ ২৮ গরু জব্দ

8

১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

9

রাজশাহী মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দেশের প্রধান অঞ্চল

10

শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রির অপরাধে ২০ জনের নামে মামলা

11

দাউদকান্দিতে ১৮ কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ৪৬ কৃষি ব্লক

12

কাজিপুরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

13

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

14

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

15

কিংস প্যালেসের পিজন স্কোয়ার-মানুষের সঙ্গে কবুতরের বন্ধুত্বপূ

16

বিশ্ব বাজারে রপ্তানী হচ্ছে টাঙ্গাইলের আনারস

17

সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে : পরিবেশমন্ত্রী

18

আজও ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

19

চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই: কৃষিমন্ত্রী

20