কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তিন বছরে অগ্রগতি ২২ শতাংশ, এবার কি গতি ফিরবে পার্টনারে?

কৃষি সময় প্রতিবেদক:
কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের মেগা প্রকল্প ‘পার্টনার’-এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি তিন বছর তিন মাসে মাত্র ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অন্য কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেলেও পার্টনারের এমন ধীরগতি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে গত ৬ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করে ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। প্রকল্পটির পরিকল্পনা প্রণয়নের শুরুতে যুক্ত থাকা এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে এবার বাস্তবায়নে গতি ফিরবে কি না, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রশ্ন।


 প্রকল্পটির প্রথম পরিচালক মো. মিজানুর রহমান অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হন। পরে ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান আবুল কালাম আজাদ। তাকেও সরিয়ে দেওয়ার পর নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন শাখাওয়াত হোসেন শরীফ। অর্থাৎ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়নপর্বে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। তবে শুধু প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করলেই অগ্রগতি বাড়বে না; এর জন্য প্রয়োজন বাস্তবায়ন পরিকল্পনার পুনর্মূল্যায়ন, জনবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত তদারকি।
 
বড় অর্থায়ন, কিন্তু অগ্রগতিতে পিছিয়ে:
 
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পার্টনার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধের কৃষির সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তবায়ন অগ্রগতি ২২ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকা কেবল সময় ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; বরং নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন, জনবল ব্যবহার এবং ফলাফল অর্জনের সক্ষমতা মূল্যায়নেরও বিষয়।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই সময়ে অন্য কয়েকটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে তুলনাটি যথাযথভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রকল্পগুলোর অনুমোদিত মেয়াদ, ব্যয়ের ধরন, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং অগ্রগতি পরিমাপের পদ্ধতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও পার্টনারের অগ্রগতি কেন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তার ব্যাখ্যা ও প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন জরুরি।
প্রকল্প প্রণয়নে যুক্ত কর্মকর্তা পেলেন দায়িত্ব :
 
পার্টনার প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যুক্ত ছিলেন ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন শরীফ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২-এর (এনএটিপি-২) অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে প্রকল্পটির ফোকাল পারসন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ডিএইর পরিকল্পনা উইং থেকে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ও পদবিন্যাস এবং দায়িত্বের বিবরণী (টিওআর) অনুসারে তাকে ‘প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর’ পদে পদায়নের প্রস্তাব নথিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
 
তবে তাকে ওই পদে নিয়োগ না দিয়ে পরবর্তী সময়ে অন্য কর্মকর্তাদের প্রকল্প পরিচালক করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্প প্রণয়নের অভিজ্ঞতা নতুন পরিচালককে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার অসংগতি চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অনুমোদিত কাঠামো, বর্তমান বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং অবশিষ্ট কাজের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা তাঁর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে।
 
প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) ২০২১ সালের মার্চে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জেটিডব্লিউজি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। ওই বছরের অক্টোবরে প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বিশ্বব্যাংকের সুপারিশে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রকল্প প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রায় এক বছর ধরে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পাঁচটি বাস্তবায়ন সহায়তা মিশনসহ বিভিন্ন পর্যালোচনা কার্যক্রমে অংশ নেয়।
 
২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালনা কমিটির (পিএসসি) এবং ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) পর্যায় অতিক্রম করে প্রকল্পটি। একই বছরের ২২ মার্চ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ১৮ এপ্রিল একনেকের অনুমোদন এবং ২৬ এপ্রিল আইএফএডির সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়। ৯ মে প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও একনেকের অনুমোদন পায়। এরপর ১৪ মে কৃষি মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক আদেশ জারি করে।
 
প্রকল্প প্রণয়নে দীর্ঘ প্রস্তুতি, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক আলোচনা এবং অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ পার হওয়ার পরও বাস্তবায়নে কেন কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় নির্ধারিত লক্ষ্য, বাস্তবায়নের দায়িত্ব বণ্টন এবং বর্তমান অগ্রগতির মধ্যে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা নতুন পরিচালকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
 
পার্টনার প্রকল্পের জনবল নিয়োগে অনুমোদিত ডিপিপি, টিওআর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিয়োগসংক্রান্ত নথি, অনুমোদিত পদকাঠামো, নিয়োগের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
 
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার অনুমোদিত ডিপিপি ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিসিএসের ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেন। এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ড. শাখাওয়াত হোসেন শরীফকে পিডি নিয়োগ দিতে না পারায় দুঃখও প্রকাশ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পরবর্তীতে শাখাওয়াত হোসেন শরীফ পার্টনারের পিডি নিয়োগ পাওয়ার আওয়াজ উঠলেও ত্রিধা গ্রুপে বিভক্তির সুযোগে তৎকালীন কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান নিজ এলাকা গাজীপুরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদকে পিডি নিয়োগ পেয়ে চমক দেন। এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এমন তথ্যও উঠে আসে।
তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর পার্টনার প্রকল্পে গতি ফেরেনি।বরং আগের পথেই হেটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, যিনি প্রকল্প তৈরি করেন, তার হাতেই সেই প্রকল্প থাকলে বাস্তবায়ন বা অগ্রগতি সঠিকভাবে হয়ে থাকে। অন্যজন প্রকল্পে এলে বুঝতে বুঝতেই অর্ধেক সময় চলে যায়। যেমনটা হয়েছে, পার্টনারের ক্ষেত্রে।
 
পার্টনার প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এর অর্থায়ন পরিচালিত হবে ‘প্রোগ্রাম ফর রেজাল্টস’ (পিফরআর) পদ্ধতিতে। এ ব্যবস্থায় প্রকল্পের নির্ধারিত ১০টি ডিসবার্সমেন্ট লিংকড ইন্ডিকেটর (ডিএলআই) এবং ২৪টি ডিসবার্সমেন্ট লিংকড রেজাল্টের (ডিএলআর) বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও স্বাধীন যাচাই সংস্থার (আইভিএ) মাধ্যমে তা যাচাইয়ের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে।
 
অর্থাৎ এ প্রকল্পে শুধু অর্থ ব্যয়, কেনাকাটা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের হিসাব দিলেই অগ্রগতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী ফলাফল অর্জন হয়েছে কি না, সেটিই অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি অর্জিত ফলাফলের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং স্বাধীন যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
 
এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামোয় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে তার প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। কোনো কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট ফলাফল অর্জন পিছিয়ে যেতে পারে। আবার কাজ সম্পন্ন হলেও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ বা যাচাইযোগ্য নথি প্রস্তুত না থাকলে ফলাফল নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন এবং ফলাফল পরিমাপকে একই কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
 
কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য এ ধরনের অর্থায়নব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবল, কার্যকর সমন্বয় এবং শক্তিশালী পরিবীক্ষণব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেশি। প্রকল্পের অগ্রগতি ২২ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকার কারণ অনুসন্ধানে তাই শুধু ব্যয়ের হার নয়, ডিএলআই ও ডিএলআরভিত্তিক অর্জনের অবস্থাও প্রকাশ করা দরকার।
 
নতুন পিডির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
 
নতুন প্রকল্প পরিচালকের জন্য প্রথম কাজ হওয়া উচিত প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন তৈরি করা। অনুমোদিত পরিকল্পনার বিপরীতে কোন কোন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, কোনগুলো পিছিয়ে রয়েছে, কোথায় জনবল বা প্রশাসনিক সংকট রয়েছে এবং কোন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে—এসব তথ্য একত্র করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
 
দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের অবশিষ্ট মেয়াদ ও কাজের পরিমাণ বিবেচনায় সময়ভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। এতে প্রতিটি কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অগ্রগতি যাচাইয়ের পদ্ধতি থাকতে হবে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন পর্যালোচনা করা গেলে বিলম্বের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
 
তৃতীয়ত, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ফলাফলভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের ব্যয়, কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্ধারিত ফলাফল অর্জনের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনবল নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং অনুমোদিত ডিপিপি ও টিওআর অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়তে পারে।
 
সবশেষে, প্রকল্পটির সুফল মাঠপর্যায়ের কৃষক ও কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে কতটা যুক্ত হচ্ছে, সেটিও মূল্যায়নের আওতায় আনা দরকার। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য যদি কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার হয়, তাহলে অগ্রগতি মূল্যায়নে কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রম বা অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথেষ্ট নয়। কৃষক পর্যায়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা পরিমাপের উপযোগী সূচকও গুরুত্ব পেতে হবে।
 
গতি ফিরবে কি না, নির্ভর করবে বাস্তব পদক্ষেপে
 
পার্টনার প্রকল্পের নতুন পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ায় বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পের ধীরগতির কারণ চিহ্নিত না করে কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতির নির্ভরযোগ্য হিসাব, বাকি কাজের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং ফলাফলভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে সামনে এগোনোর মূল শর্ত।
 
একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও স্পষ্ট করা জরুরি। এতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হবে।
 
তিন বছর তিন মাসে ২২ শতাংশ অগ্রগতির পর পার্টনার প্রকল্পের সামনে এখন দুটি সমান্তরাল কাজ—বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থাকলে তা দূর করা। নতুন প্রকল্প পরিচালক এসব ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেন, নির্ধারিত সূচকে কতটা অগ্রগতি হয় এবং কৃষক পর্যায়ে প্রকল্পের সুফল কতটা পৌঁছায়, তার ওপরই নির্ভর করবে দীর্ঘদিনের ধীরগতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানি বাড়লেই বন্যা, কমলেই ভাঙন: আতঙ্কে কাজিপুরে লাখো মানুষ

1

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

2

বেগুন চাষে মাঈনের সাফল্য

3

হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কঞ্চনা বিলের দুলর্ভ মাটি

4

জয়পুরহাটের আলু চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে

5

রঙ্গিন মাছ চাষে ইমনের ভাগ্য বদল

6

বাগেরহাটের ঢেঁড়স চাষীরা হতাশ

7

যমুনার চরাঞ্চলে চাষাবাদে কৃষকদের সচ্ছলতা

8

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার

9

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

10

খুকৃবির নতুন উপাচার্য আসাদুজ্জামান

11

শস্যবিমায় যুক্ত হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

12

সবজির গ্রাম মীরের বাড়ি

13

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

14

নেপালের পর্য টন নগরী পোখারার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফল বিক্রেতা প

15

জাল-মাছসহ ১৭ জেলে আটক

16

বৈদ্যেরবাজারে দেশি মাছের জমজমাট কেনাবেচা

17

মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বিআরটিএর

18

কাঁচা মরিচের দাম নেমেছে ১০০ টাকায়

19

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

20