রাঙামাটি সংবাদদাতাঃ
রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ জমিতে এখন মাল্টা চাষাবাদ হচ্ছে। এই সবুজ মাল্টা আকর্ষণীয়, সুস্বাদ হওয়ায় বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত মাল্টা যাচ্ছে সারা দেশে। চাহিদা থাকায় এখনকার চাষিরা মাল্টা বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আয় করছেন।
জানা গেছে, রাঙামাটিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশীয় মাল্টার চাষ। পাশাপাশি ফলনও হয়েছে ব্যাপক। এরই মধ্যে সফলতা পেয়েছেন রাঙামাটির শুকরছড়ি গ্রামের অনেক মাল্টাচাষি। ফলে পাহাড়ের কৃষকদের মধ্যে মাল্টা চাষের আগ্রহও বেড়েছে।
পাহাড়ে উৎপাদিত এসব মাল্টার চাহিদা অনেক। রাঙামাটি জেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হেক্টর জমিতে মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষকরা। পাহাড়ি মাটি উর্বর হওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে সহজেই বেড়ে উঠছে মাল্টাগাছ। হেক্টরপ্রতি ১২ মেট্রিক টন করে মাল্টা উৎপাদিত হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক। এসব মাল্টা বিক্রি করে ৪ থেকে ৫ কোটির বেশি টাকা আয় করেছেন চাষিরা।
এক সময় রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ে অল্প কিছু ফসল চাষাবাদ হতো। যা দিয়ে কৃষকরা তমন লাভবান হতে পারতেন না। সময়ের পরিক্রমায় সেই পাহাড়ে এখন উচ্চ মূল্যের লাভজনক ফল চাষাবাদ হচ্ছে। রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, কাউখালী ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় ব্যাপক হারে এখন চাষাবাদ হচ্ছে সবুজ মাল্টার। বারি-১ জাতের এ মাল্টা কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ এবং পাকলে গাঢ় সবুজ রং ধারণ করে। দুর থেকে সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সবুজ মাল্টা তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণ মাল্টা ধরেছে। প্রতিটি পাহাড়ের মাল্টা বাগানেই বাম্পার পলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে বাাজরে সয়লাব হয়ে গেছে এখনকার মাল্টায়। বাজারে থাাক বিদেশি মাল্টার চেয়ে বেশি মিষ্টি আর রসালো হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা এখন দেশ জুড়ে। সে কারনে মাল্টা বিক্রি করে এখানকার চাষীরা ভাল টাকা আয় করছেন।
মাল্টাচাষি হেমা কুমার চাকমা বলেন, পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া উপযুক্ত থাকায় এবার মাল্টা চাষে সফল হয়েছেন চাষিরা। তাছাড়া কম খরচে ব্যাপক ফলন হওয়ায় লাভও বেশি। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পাহাড়ে উৎপাদিত মাল্টা বিরাট ভূমিকা রাখছে। রাঙামাটি ছাড়িয়ে এসব মাল্টা ঢাকা ও চট্টগ্রামেও সরবরাহ হচ্ছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিনরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগ মাল্টাচাষিদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। হেম কুমার চাকমার মতো অনেকেই এখানে মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন। এসব মাল্টার চাহিদা অনেক। তাই সহজেই বাজারজাত করা যায়। পাহাড়ি জমিতে মাল্টা চাষ বাড়াতে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাল্টার চারা বিতরণ করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
কৃ/স/জয়