চট্রগ্রাম সংবাদদাতাঃ
একটি দুটি নয়। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে তিন শতাধিক অবৈধ করাত কল। যেখানে প্রতিদিন নির্বিচারে গাছ কেটে চেরাই করা হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে বিশাল বনাঞ্চলের গাছ। এতে কমছে সবুজ বনাঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য এমন কর্মকান্ড চললেও বন বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রেেয়ছে নীরব। চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে চরছে করাত কলের এই নৈরাজ্য।
সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশখালী পৌরসভার সংরক্ষিত বনের তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে অর্ধডজনসহ অসংখ্য করাতকল গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ কলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা ও সামাজিক বনায়নের গাছ অবাধে চেরাই করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গর্জন, সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাদারট্রি কেটে নদীপথে কুতুবদিয়ায় পাচার করা হচ্ছে। প্যারাবন উজাড় হওয়ায় উপকূলের বেড়িবাঁধ ও জনপদ চরম দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিধি অনুর্যায়ী সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপন করা নিষিদ্ধ। অথচ বাঁশখালীর পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর, বৈলছড়ী, জলদী, চাম্বল ও পুঁইছড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বনের সীমানা ঘেঁষেই বসানো হয়েছে এসব অবৈধ স’ মিল। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে নামফলক ছাড়াই রাতের আঁধারে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক বন কর্মকতার সাথে কথা হলে তারা একে অপরের উপর দায় চাপান এবং শিঘ্রই অভিযানের আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান জানান, বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশের সকল করাতকলের হালনাগাদ তথ্য ও জিপিএস রিডিং সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ করাতকল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কৃ/স/জয়