কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লোডশেডিংয়ে মুরগি মরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা

পাবনা সংবাদদাতাঃ 
পাবনায় দীর্ঘ লোডশেডিং ও গরমে শ্বাসকষ্ট ও হিটস্ট্রোকসহ নানা কারণে মারা যাচ্ছে খামারের বড় বড় মুরগি।  জেলাজুড়ে বিভিন্ন খামারে এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মালিকরা। এতে চরম ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন খামারিরা। 

পাবনায় তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের টানা পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার লোডশেডিং। খামারের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাবে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও হিটস্ট্রোকসহ নানা কারণে নিমিষেই নেতিয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে আড়াই কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের মুরগিগুলো। 

এমন অবস্থায় ঈশ্বরদীর উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের ব্রয়লার মুরগির খামারি আবু রায়হানের শতাধিক মুরগী মারা গেছে। খামারে প্রতিদিন এমন মৃত্যুর মিছিল দেখে আতঙ্কে সব মুরগি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। শুধু এই খামারি নয়। জেলাজুড়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে সব খামরিদের অবস্থা এখন একই রকম। 
এমনিতেই লাগামহীন খাদ্য-ওষুধের দাম এবং একের পর এক সংক্রামক রোগের ধাক্কা সামলাতে দিশেহারা খামারিরা। এর সাথে নতুন বিপদ হিসেবে যুক্ত হওয়া তীব্র লোডশেডিং যেন তাদের পুরোপুরি সর্বস্বান্ত করতে চলেছে।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দফায় পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বেড়েছে বহু গুণ। দুই-তিন বছর আগে যে ফিডের দাম ছিল ২৪০০ টাকা।  তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪০০ টাকায়। ওষুধেও বেড়েছে সমপরিমাণ খরচ। এতে এখন তাদের ঘুড়ে দাঁড়ানোই কঠিন ।

পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের শানিকদিয়ার এলাকার নাজমা বেগম জানান, গরম আর রোগবালাইয়ের কারণে ২৮ দিনে ৩৬০টি মুরগির মধ্যে তার ১০০টি বড় মুরগি মারা গেছে। এতে তার লোকসান হয়েছে ৩০-৪০ হাজার টাকা। দেনা মেটাতে এক কিস্তির ওপর আরেক কিস্তি তুলতে হচ্ছে তাকে।

পাবনা জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আকমল জানান, জেনারেটর চালাতে ঘণ্টায় ২০০ টাকা হারে দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক প্রান্তিক খামারি নির্ধারিত সময়ের আগেই কম দামে মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন, কেউবা খামার বন্ধই করে দিচ্ছেন। 

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে খামারিদের স্যালাইন ও বিটেইন জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকার পোল্ট্রি খাতে বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং খাদ্য-ওষুধেও ভর্তুকির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এসব সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে খামারিরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর জেনারেল ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল আমীন চৌধুরী জানান, গত কয়েকদিনের গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭০-৭৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে ২৫-৩০ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় সংকট কেটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বর্ষা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাজারে উত্তাপ

1

টিস্যু কালচারে জি-নাইন কলার চারা উৎপাদনে সফলতা, সারা দেশে বা

2

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ

3

মাছ না পাওয়ায় কষ্টে চলছে জেলেদের জীবন

4

চট্রগ্রামে ডুবে গেছে ১০ হাজার মৎস্যঘের

5

প্রধানমন্ত্রীকে কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন

6

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

7

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ

8

ইলিশের ডিমের কেজি ৬ হাজার টাকা

9

কেআইবি ভবিষ্যতে সকল কৃষিবিদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে

10

কানসাট আম বাজার এখনো জমজমাট

11

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি রফিকুল সম্পাদক আসাদুজ্

12

ভেজাল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীকে জরিমানা

13

৯৩ হাজার কোটি ঘাটতি নিয়ে এনবিআরের বছর পার

14

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিনার জাত বিষয়ে নির্দেশনা

15

বরিশাল প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রকল্পে লুটপাট

16

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

17

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

18

চালুর আগেই সৌর সেচের যন্ত্রাংশ চুরি

19

আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে নিরাপদ চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত

20