ভোলা সংবাদদাতাঃ
ভোলার চরফ্যাশনে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় জন জীবন এখন ওষ্ঠাগত। প্রতিদিন পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে ময়লা-আর্বজনা এনে এখানে ফেলা হচ্ছে। এতে পর্যটন সমৃদ্ধ এ উপজেলায় মানুষের সড়ক দিয়ে চলাচল করাই দ্বায় হয়ে পড়েছে।
চরফ্যাশন-ভোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন ময়লা আর্বজনা ফেলে ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে। পৌর শহরের প্রবেশ পথে এই ময়লা ভাগাড়ের পচা ময়লার উৎকট দুর্গন্ধে নাকাল হচ্ছেন পথচারী, পরিবহন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশুরা এ পথ দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধে বিরক্ত হয়ে নাক চেপে ধরছে। এতে অভিভাবকরাও পড়ছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশের ওই স্থানটিকেই ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন সময় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি উঠলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুধু পচা ময়লার দুর্গন্ধই নয়, অনেক সময় ওই ময়লার স্তূপে আগুন দেওয়ায় চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে তারা চুলকানি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লা ফেলা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরফ্যাশন পৌরসভা ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০০৩ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন।
ময়লার ভাগাড়টির পাশেই রয়েছে চরফ্যাশনের অত্যাধুনিক যাত্রী বাস টার্মিনাল। দূর-দূরান্ত থেকে বাসে করে আসা যাত্রীরা টার্মিনালে নামা-ওঠার সময়ই পড়েন উৎকট দুর্গন্ধের কবলে। ফলে পর্যটন শহরে প্রবেশের মুখেই শহরের পরিবেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চরফ্যাশন পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, আমরা ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে আমরা ডাম্পিং স্টেশন করতে পারব। আশা করি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত নজর দেবে।
কৃ/স/জয়