জামালপুর সংবাদদাতাঃ
জামালপুরের পৌর শহরের একটি বকুল গাছ এখন চড়ুই পাখিদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার চড়ুইপাখিতে ঢেকে থাকে গাছটি। সন্ধ্যা হলেই পাখির কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। যা দেখতে ভীড় করে পাখি প্রেমীরা।
জামালপুর পৌর শহরের টিউবওয়েলপাড় এলাকার বকুল গাছটি এখন স্থানীয়দের কাছে চড়ুই বাড়ি হিসাবে পরিচিত। দিনের বেলা এ গাছে তেমন কোন পাখি দেখা না গেলেও । সন্ধা হলেই এই গাছে নানা প্রান্ত থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে চড়ুই পাখির দল। এসময় বকুল গাছটি হয়ে ওঠে হাজারো পাখির রাতের ঠিকানা। পাখির কারণে তখন ঢেকে যায় গাছের প্রতিটি ডালপালা। দূর থেকে মনে হয়, গাছে পাতার চেয়ে যেন চড়ুইয়ের সংখ্যাই বেশি। সন্ধ্যা হলেই পাখির কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। ক্ষনিকের জন্য যে কারো মনকে শিহরিত করে।
সরেজমিনে দেখা যায়,আকারে ছোট বকুল গাছটিতে সন্ধ্যার পর দেখা মেলে হাজারো চড়ুই পাখির। এসময় এর প্রায় প্রতিটি শাখা-প্রশাখা চড়ুই পাখিতে ভরে যায়। পাশাপাশি আর গাদাগাদি করে বসে থাকে পাখিগুলো। তাদের ছোটাছুটিতে গাছের সরু ডালগুলো তখন অনবরত নড়তে থাকে। পাখিদের অবিরাম কিচিরমিচির ডাকে আশপাশের পরিবেশও হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোরে পাখিগুলো খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন দিকে উড়ে চলে যায়। সারাদিন শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে খাবার সংগ্রহের পর সূর্যাস্তের সময় আবারও তারা ফিরে আসে এই গাছে। সারারাত এখানেই কাটে তাদের। রাত পেরিয়ে ভোর হলে আবারও শুরু হয় উড়ে যাওয়ার পালা। গত তিন বছর ধরে পাখিগুলো এই গাছেই রাত কাটাচ্ছে। গাছটিতে কয়েক হাজারেরও বেশি চড়ুই পাখি বসবাস করে আসছে।
জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, নতুন নতুন আবাসস্থল নির্মাণে মানুষ গাছপালা কেটে সাবাড় করে ফেলছে। এতে করে পাখিদের আবাসস্থল ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই পাখির আবাসস্থল ও খাবারের জায়গা নষ্ট না করে তাদের নিরাপদে বসবাসের সুযোগ করে দিতে হবে। পাখিগুলোকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কৃ/স/জয়