খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ রাঙামাটি পাহাড়ি এলাকায় মাছ চাষে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে শাহজাহান আলী নামে এক মাছ চাষী। তিনি বেশ কয়েকটি বড় পুকুরে মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। শুধু মাছ চাষই নয়। রেণূ পোনা উৎপাদন করেও আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। সফল ওই মাছ চাষীর বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী মুসলিমপাড়ায়।
জানা যায, প্রায় ২০ বছর আগে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই মাছ চাষ শুরু করেছিলেন শাহজাহান আলী। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শই ছিল তার পথচলার মূল প্রেরণা। শুরুতে এ চাষাবাদে তার লাভ-লোকসান দুই-ই ছিল। একাধিকবার লোকসানের মুখে পড়লেও তিনি হাল ছাড়েননি। ধৈর্য ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে বর্তমানে বছরে তিনি ৭৫ থেকে ৮০ লাখ টাকার মাছ ও পোনা বিক্রি করেন। নিজের বৃদ্ধি আর পরিশ্রম দিয়ে মাছ চাষাবাদ করে আয়ত্ত করে তিনি এখন সফল চাষী।
দীঘিনালা সেনানিবাসের আগে কবাখালী মুসলিমপাড়ায় শাহজাহানের প্রায় ১০ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর । এর পানিতে মাছে ভরপুর। এমন আরও পাঁচটি ছোট পুকুর রয়েছে তার। দীঘিনালা উপজেলায় তিনিই একমাত্র রেণুচাষি। প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ কেজি রেণু সংগ্রহ করে তা থেকে পোনা উৎপাদন এবং বাজারজাত করেন এর মাধ্যমেও তিনি ভাল টাকা আয় করছেন। শাহজাহান, তার তিন ছেলে এবং আরও ছয় থেকে সাতজন শ্রমিক প্রতিদিন মাছ চাষের কাজে নিয়োজিত থাকেন।
শাহজাহার আলী জানান,মাছ চাষাবাদে তার ভাগ্য ঘুরিয়েছে। তবে গত বছরের বন্যা তার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ‘বন্যায় আমার চারটি পুকুর তলিয়ে যায়। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায়। এরপর থেকে বড় আকারের মাছ চাষে ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ইচ্ছা থাকলেও এখন আর বড় মাছ চাষ করতে পারছি না।’
তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা মৎস্য অফিস, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথা। তাদের আন্তরিক সহায়তাই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দীঘিনালা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরৎ কুমার ত্রিপুরা বলেছেন,শাহজাহানের খামার পরিদর্শন করেছি। তার মাছ চাষ অত্যন্ত পরিকল্পিত ও প্রশংসনীয়। আমার পূর্বসূরি মৎস্য কর্মকর্তা অবর্ণা চাকমাও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।
কৃ/স/জয়
মন্তব্য করুন