নীলফামারী সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু চাষাবাদ। গত মৌসুমে লস হলেও এবার লাভের আশায় মাঠে মাঠে কৃষকরা আলু বুনতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সমতলের খেটে খাওয়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি আগাম আলু চাষ। হাড়ভাঙা খাটুনি আর উর্বর সমতল ভূমিকে কাজে লাগিয়ে শীতের শুরুতেই বাজার কাঁপাতে আগাম জাতের আলু রোপণে ধুম পড়েছে উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে মাঠে।
সরেজমিনে উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রনচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে দেখা যায়, স্বল্প জীবনকালের আমন ধান কাটার পর পরই আলু রোপণের জন্য জমি তৈরি করা হচ্ছে। হিমাগারে সংরক্ষিত বিজ বের করে বাড়িতে রাখা মুকুল গজানো আলু কিংবা বাজার থেকে ১২-১৩ টাকা কেজি দরে কেনা বীজ আলু এখন সারিবদ্ধভাবে বোনা হচ্ছে। এতে একাধারে ধান কাটা ও আলু রোপণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দিনমজুর নারী-পুরুষের এক বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
তবে গত মৌসুমে আলুর আশানুরূপ দাম না পাওয়া এবং হিমাগারে রাখা বাবদ অতিরিক্ত খরচের কারণে লোকসানের কবলে পড়েছিলেন চাষিরা। পানির দামে বিক্রি করতে গিয়ে পুঁজি হারিয়েছিলেন অনেকে। তা সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে বীজের কম দাম, অনুকূল আবহাওয়া ও রাসায়নিক সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর ভরসা করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার তাড়নায় নতুন উদ্যামে মাঠে নেমেছেন তাঁরা।
উপজেলার রনচণ্ডী ইউনিয়নের কুটিপাড়া ব্লকের ইসহাক হাজী (৩ বিঘা), ফরিদুল ইসলাম (৩ বিঘা), সুজা মিয়া (৩ বিঘা), আনিছুর রহমান (২ বিঘা) ও আবদুল হাই (১ বিঘা) জমিতে আগাম আলু চাষ করছেন। তাঁদের মতে, ভালো বাজারমূল্য নিশ্চিত হলে সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ভালো অঙ্কের নিট মুনাফা ঘরে তোলা যায়।
বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিম পাড়া গ্রামের কৃষক মিনারুল ইসলাম ৬৫ শতাংশ জমিতে 'সেভেন' জাতের আগাম আলু রোপণ করছেন। তিনি জানান, বিঘাপ্রতি ফলন কিছুটা কম হলেও আগাম বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষেই মুনাফা বেশি। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও শ্রমিক খরচ বাবদ ফসল তোলা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ হলেও বাজার দর ঠিক থাকলে সব লোকসান সামলে নেওয়া সম্ভব।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার সরবরাহ নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক সময় উপযোগী বাজারমূল্য পেলে চাষিরা বিগত দিনের লোকসান পুষিয়ে লাভবান হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃ/স/জয়