যশোর সংবাদদাতাঃ
নানা ধরনের বর্জ্যর সাথে ট্রাইকোড্রার্মা মিশিয়ে জৈব সার সার তৈরি করে সাড়া ফেলেছে যশোরের চৌগাছার তরুন উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন। এই সার বাজারযাত করে তিনি শুন্য থেকে নিজের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়েছেন। তৈরি করেছেন অন্যদের কর্মসংস্থানের পথ।
জানা যায়,ইমরান হোসেন এক সময় একটি কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। ২০১৭ সালে তা ছেড়ে বাড়ি চলে আসনে। এর কিছুদিন পর তিনি শিশু নিলন নামে একটি সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নেন ট্রাইকো কম্পোস্ট সার তৈরির। এরপর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় নিজের দুই শতক পতিত জায়গায় তৈরি করেন চারটি পাকা হাউজ করে সার তৈরি শুরু করেন।
ইমরান তার বাড়িতে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট এবং বাইরে থেকে শুধু মুরগির বিষ্ঠা ও ট্রাইকোডার্মা কিনে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমানের সার তৈরি করছেন। এই ট্রাইকো কম্পোস্ট খুব উন্নতমানের সার। এতে ১৬টি উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
তার উৎপাদিত সার এখন শুধু স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যশোরের পাশাপাশি খুলনা, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহের কৃষক ও দোকানদাররাও এই সার সংগ্রহ করছেন।
মাত্র দেড় বছর পর সার তৈরির সেই ছোট উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক পুঁজিতে। সার ও লিচেট বিক্রির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন নার্সারি ও সারের দোকান। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে তার লাভ হচ্ছে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
ইমরানের এই যাত্রা শুধু একজন তরুণের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প নয়। কৃষির উচ্ছিষ্টকে সম্পদে পরিণত করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরিরও একটি উদাহরণ।
সার ও লিচেট বিক্রির মুনাফা দিয়ে ইমরান এখন নার্সারি ও সারের দোকান পরিচালনা করছেন। নার্সারিতে নিজের উৎপাদিত সার ব্যবহার করে চারা তৈরি করেন।
ইমরানের এই জৈব সার থৈরির কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন শ্রমিকের। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বেকারদের উদ্যোক্তা হিসাবে দাঁড়াতে উৎসাহ ও সহযোগীতা দিচ্ছেন। তার দেখা দেখি অনেকেই এ কাজে জড়িত হবার চেষ্টা করছেন।
সার তৈরির উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন জানান,‘এই ট্রাইকো কম্পোস্ট সারের উৎপাদন আমি আরও ব্যাপক হারে করতে পারতাম। তাহলে কৃষকরা জৈব সারের ব্যবহার আরও বেশি বাড়াতে পারতেন। সরকার বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পাশে এসে দাঁড়ালে ব্যবসাটা আরও বড় পরিসরে করতে পারব। তার মতে, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো গেলে একদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উর্বরতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ট্রাইকো কম্পোস্ট ব্যবহারে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বিশেষ করে ছত্রাকজনিত রোগের বিরুদ্ধে সক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে ফসলের গুণগত মান ভালো হয় এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে। তিনি বলেন, ‘যশোর যেহেতু সবজি প্রধান জেলা, এই সার উৎপাদন করে উদ্যোক্তারা যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি অন্যকেও স্বাবলম্বী করছেন। আরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
কৃ/স/জয়