কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাঙামাটিতে অস্তিত্ব সংকটে বন্যহাতি

রাঙামাটি সংবাদদাতাঃ 
রাঙামাটিতে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এশীয় মহাবিপন্ন প্রজাতি বন্য হাতি। আবাসস্থল ধ্বংস, তীব্র খাদ্য সংকট ও মানুষের সাথে ক্রমাগত সংঘাতের মুখে পড়ে তাদের এই পরিণতি। এতে পাহাড়জুড়ে প্রায়ই মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। যার কারনে অনেক হাতির মৃত্যু ঘটেছে। 

বন বিভাগের হিসাব মতে, কাপ্তাই অঞ্চলে প্রায় ৩৬টি হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ জানায়, লংগদু ও বরকল এলাকায় ১২ থেকে ১৫টি হাতি সক্রিয় রয়েছে, যার বড় অংশটি অবস্থান করছে লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায়।

কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড় ও বিদ্যুতায়িত ফাঁদের কারণে গত দেড় দশকে রাঙামাটির পাহাড়ে অন্তত ১৩টি হাতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই একই সময়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ জন মানুষ। বর্তমানে পুরো রাঙামাটিতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি হাতি অবশিষ্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নানা কারণে হাতির বংশপরম্পরায় ব্যবহৃত চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হচ্ছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল উজাড় ও সেগুন বা ইউক্যালিপটাসের মতো কৃত্রিম বনায়নের কারণে হাতির খাবারের প্রধান উৎস নিঃশেষ হয়ে আসছে। পাহাড়ে মানুষের কার্যক্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে হাতির সাথে সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে।

বুনো হাতির দল শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। মাঝে মধ্যেই খাবারের খোঁজে হাতির দল ফসলি জমি ও লোকালয়ে হানা দিলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ফসল ও জীবন বাঁচাতে হাতির ওপর আক্রমণ চালায়। যা উভয় পক্ষের জন্যই করুণ পরিণতি ডেকে আনছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এশীয় হাতি সংরক্ষণ করা জরুরি। দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাঙামাটির পাহাড় থেকে এই প্রাণীটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, কাপ্তাই এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সোলার ফেন্সিং (বিদ্যুতায়িত বেড়া) স্থাপনের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি হাতির খাদ্যাভাব মেটাতে তাদের পছন্দের গাছ লাগানো হচ্ছে এবং লোকালয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কেউ হাতির ওপর আক্রমণ না করে।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুপ্রিয় চাকমা বলেন, হাতির প্রাকৃতিক আবাসে যেভাবে বন উজাড় করে বাগান, সড়ক ও বসতবাড়ি তৈরি হচ্ছে, তাতে দ্রুতই হাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। হাতির খাদ্য ও চলাচলের পথ সুরক্ষায় গুরুত্ব না দিলে এই প্রাণীকে বাঁচানো অসম্ভব।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩৩ কেজি বাঘাইড় বিক্রি হলো ৫৬ হাজারে

1

তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে দেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ

2

সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি

3

কাজে আসছে না কোটি টাকার ডাস্টবিন

4

হাতিয়ায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

5

উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

6

পানির অভাবে আমন খেত ফাটল

7

তরুনদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অব্যবহৃত জলাশয় বন্টন করা হবে-প্

8

চরফ্যাশনে ভেসে গেছে মাছের ঘের

9

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থান

10

বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক নেবে ওমান

11

কৃষকদের ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের আহ্বান

12

বিষাক্ত ট্যাবলেটে মারা হচ্ছে নদীর মাছ

13

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

14

পাট চাষে ফিরছে সুদিন

15

তুর্কি দুম্বা পালনে হাফেজ রাকিবুলের সাফল্য

16

বাম্পার ফলনের পর পাটখড়িতেও লাভবান চাষিরা

17

সাতক্ষীরায় জিরার দাম কমেছে

18

সড়ক যেন ময়লার ভাগাড়

19

বৃষ্টি না থাকায় ফসল বাঁচাতে সেচেই ভরসা

20