কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা জেলেরা

পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ 
পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন। বাড়তি দামে তেল কিনে সাগরে মাছ ধরে বিক্রির পর যা পাচ্ছেন তা দিয়ে সংসার চালানোতো দুরের কথা তেলের দামই উঠছে না তাদের। এমন অবস্থায় তাদের এ পেশায় এখন টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। 

পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ৭০ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। তারা নদী-সাগরে মাছ ধরে জিবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার জেলেদের পরিবার চলে সাগর নদীতে মাছ ধরে। তবে সম্প্রতি সময়ে নদী-সাগরে মাছ মিলছে  না। সারাদিন জাল ফেলে তারা কাঙ্খিত মাছ পাচ্ছেন না। যাও অল্প কিছু মাছ পাচ্ছেন তা নৌকার জ্বালানি তেল সহ অন্য খরচেই শেষ। দিন শেষে কোন জেলের হাতে পরিবার চালানোর মতো টাকা আসছে না। এমন অবস্থায় তারা দেনার দায়ে জড়িয়ে পড়ছেন। এখানকার প্রতিটি জেলে পরিবার এখন অতি কষ্টে দিন পার করছেন। এরই মাঝে নতুন করে আবারও তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। যার প্রভাব পড়েছে।

পটুয়াখালীর গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্র মহিপুর ও আলীপুরে চলতি বছর দীর্ঘ সময় ধরে ইলিশের তীব্র সংকট রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে লোকসানের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে নতুন সংকট হিসেবে দেখছেন তারা।

জেলেদের ভাষ্য, মাছ ধরতে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল অন্যতম প্রধান ব্যয়। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় প্রতিটি ট্রিপেই অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে। এতে মাছ না পাওয়ার মৌসুমে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলেদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ট্রলার পরিচালনার ব্যয় বেড়ে গেলে অনেক জেলেকেই মাছ ধরায় নিরুৎসাহিত হতে হতে পারে।

ট্রলার মাঝি আলী বলেন,ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। এর মধ্যে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। এতে আমাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

রুস্তম নামে আরেক জেলে বলেন, তেলের দাম বাড়লে মাছ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন ও সংরক্ষণের খরচও বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পুরো মৎস্য খাতেই পড়তে পারে। তাই জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনা অথবা জেলেদের জন্য ভর্তুকি দেওয়া দরকার।’

পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, জেলেদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আট মাসের কাজ শেষ হয়নি চার বছরে

1

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহার

2

কোড়ল আহরণে বিলুপ্তির পথে বাঁশের প্রজাতি

3

মজুত করা পেঁয়াজ পচনে দিশেহারা কৃষক

4

১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

5

বিষ দিয়ে কৃষককের ধান পুড়িয়ে দেবার অভিযোগ

6

এক কাঁঠালের দাম ১০ হাজার টাকা

7

রক্তদহ বিলের জলবদ্ধতা কৃষকের গলার কাঁটা

8

কুমিল্লায় আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা

9

কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ

10

মা মাছ রক্ষায় হাওরে হচ্ছে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’-কৃষিমন

11

কৃষকের জমির ধান পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

12

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

13

জেলে কার্ডের সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ

14

নিজ জেলায় ফিরছেন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা

15

কমলগঞ্জের টমেটোর চারা যাচ্ছে সারা দেশে

16

পতিত জমি চাষাবাদে আনতে বিএডিসির উদ্যোগ

17

গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চূড়ান্ত ভর্তির সময় বাড়ল

18

শামুক না থাকায় কমছে অতিথি পাখি

19

নওগাঁয় আম বাগানে আনারস চাষাবাদ

20