কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িপ্রামে জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতি ব্যবহার করে অমৌসুমী ও বারোমাসি তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন জেলার কৃষকরা। পলিটানেল, মালচিং, মাচা, ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ ও বিষটোপসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তরমুজ চাষ করছেন তারা। অমৌসুমে বাজারে তরমুজ ওঠায় মিলছে ভালো দাম। একই জমিতে বছরে একাধিকবার তরমুজ ও সবজি চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাড়ছে কৃষকের আয়।
নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কুড়িগ্রামের চাষীরা বার বার ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছে। এ সমস্য মাথায় রেখে অনেক চাষী আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চাষাবাদ করছেন।
রাজারহাট উপজেলার ঝাড়খোলা গ্রামের কৃষক জামান মিয়ার ২৫ শতক জমিতে পলিটানেলের পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে তারভিতর চাষাবাদ করছেন। তিনি পলিটানেলের ভিতর সারি সারি তরমুজগাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলো বাঁশ ও জিআই তারের তৈরি মাচায় উঠেছে। যা চারপাশ ঘেরা নাইলনের জালে। গাছের মধ্যে ঝুলছে ছোট আকারের তরমুজ। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করছেন ফেরোমন ও হলুদ ফাঁদ, পাশাপাশি রয়েছে বিষটোপ। জৈব সার ও মালচিং পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাল ফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন এ চাষাবাদে লাভবান হবেন।
চাষী জামান মিয়া জানান,প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাই এবারই প্রথম পলিটানেল ব্যবহার করে তরমুজ চাষ করেছি। এতে অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। আশা করছি ভালো ফলন পাব।
গোলজার নামে আরেক কৃষক বলেন,মে মাসের শুরুতে তরমুজের চারা রোপণ করেছি। বাঁশের মাচা, শ্রমিক, সারসহ প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফায় ৭০টি তরমুজ তুলেছি। প্রতিটি তরমুজের ওজন গড়ে তিন থেকে চার কেজি হয়েছে। দুই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। সামনে আরও দুই দফা তরমুজ তুলতে পারব। এরপর বড় ধরনের বাড়তি খরচ ছাড়াই আবার তরমুজ চাষ করা যাবে। এভাবে বছরে তিনবার তরমুজ এবং একবার সবজি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পলিটানেল অনেকটা ছোট আকারের গ্রিনহাউসের মতো কাজ করে। এতে অতিরিক্ত বৃষ্টি, ঠান্ডা ও তাপমাত্রার ওঠানামার প্রভাব কমানো যায়। পাখি ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও গাছ ও ফল রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি কমে। পলিটানেলের ভেতরে আর্দ্রতা ধরে রাখায় বাষ্পীভবন কম হয়, ফলে পানির অপচয়ও কমে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মেহিদী হাসান বলেন, “কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ভূরুঙ্গামারী ও উলিপুরে প্রায় ৩৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। অমৌসুমী বা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষির অনিশ্চয়তা বাড়লেও অভিযোজন পদ্ধতি ব্যবহার করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের কৃষকরা। অমৌসুমে তরমুজ উৎপাদন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ এবং একই জমিতে একাধিকবার ফসল ফলানোর সুযোগ তাদের সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
কৃ/স/জয়