কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আলীকদমে দ্রুত বাড়ছে কলা চাষ

বান্দরবান সংবাদদাতাঃ 
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে বিপুল পরিমাণ জমিতে এখন কলা চাষাবাদ হচ্ছে। বিস্তৃন্ন পাহাড়ের যতদুর চোখ যায়,শুধু সবুজ কলা গাছ। আর তাতে ঝুলছে বড় বড় কলার কাধি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই কলা যাচ্ছে সারা দেশের বাজারে। এ চাষাবাদে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রান্তিক কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আলীকদমে মোট ১ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি ও পাহাড়ের ঢালে কলার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা কলা ৬৭৭ হেক্টর, চাপা কলা ৩৫৪ হেক্টর, সাগর কলা ৫২ হেক্টর, সরবি কলা ২৭ হেক্টর এবং কাঁচকলার আবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে বছরজুড়েই বাংলা, চাপা, সাগর, সরবি ও কাঁচকলার চাষ হয়। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কলার ফলন বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রবিবারেই পানবাজার ও আমতলী নদীঘাট থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ছড়া কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

কৃষকদের মতে, পর্যাপ্ত সার, সরকারি প্রণোদনা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আলীকদমে কলা চাষের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে প্রান্তিক কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ভরিমুখ কর্মকারপাড়া এলাকার দুই তরুণ কৃষক মো. হাসান ও খুরশেদ আলম ১০ একর জমিতে কলা চাষ করেছেন। তাঁরা জানান, প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০টি কলার ছড়া বিক্রি করেন। ছড়াপ্রতি দাম পান ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা গেলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

চকরিয়ার কলা ব্যবসায়ী মো. শামশুল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও টোলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কলা পরিবহনে ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, আকার ও গুণগত মানের কারণে পাহাড়ি কলার চাহিদা ভালো।

আলী কদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, পাহাড়ের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই কলাগাছ বেড়ে ওঠে। চারার আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা, মরা পাতা অপসারণ এবং অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলার মতো পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। সার ও কীটনাশক ছাড়াই চাষ করা হয় বলে এ কলার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। তিনি আরও বলেন, উপজেলায় সারের চারজন ডিলার থাকলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সব কৃষকের মধ্যে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চরফ্যাশনে ভেসে গেছে মাছের ঘের

1

খুলনায় ১৬ হাজার ৪৬৪ হেক্টর আমন বীজতলা

2

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

3

হালদা হবে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ

4

রাণীশংকৈলে ২০ বস্তা সার জব্দ

5

কীটনাশক আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রিতে নতুন নীতিমালা হচ্ছে

6

বরিশালে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেছেন তথ্যমন্ত্রী

7

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত প্লাস্টিকে শ্বাসরুদ্ধ

8

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা বাড়ল আরও ১০ দিন

9

সিরাজগঞ্জে আউশের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

10

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

11

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

12

বকশীগঞ্জে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ

13

সমুদ্রবন্দরে ৩ ও নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

14

যমুনার চরাঞ্চলে চাষাবাদে কৃষকদের সচ্ছলতা

15

অস্তিত্ব সংকটে বাঁশশিল্পের ঐতিহ্য

16

জনবল সংকটে বন্ধ প্রাণী কল্যাণ কেন্দ্র

17

বাজারে অসময়ের আমের জমজমাট কেনাবেচা

18

৫০ বছরের পুরোনো সবজি হাট

19

রাষ্ট্রপতির সাথে রুয়েট ও শেকৃবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

20