কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সমেশপুরের সবজির চারা যাচ্ছে ৩৪ জেলায়

কুমিল্লা সংবাদদাতাঃ 
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে উৎপাদিত হচ্ছে নানা ধরনের সবজি চারা। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের ৩৪ জেলায়। এর মাধ্যমে এখানকার চাষীরা আয় করছেন প্রায় ৫০ কোটি টাকা। 

সমেশপুরে চাষীদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয় কাকডাকা ভোর থেকে। বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির কাজ। দুপুরে কিছুটা বিরতি থাকলেও বিকেল গড়াতেই আবার শুরু হয় ব্যস্ততা। শীতের আগমুহূর্তে চারা বিক্রির মৌসুম জমে ওঠায় এখন দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই মাঠে কাটছে কৃষকদের। দিনভর মাঠে ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। এই মৌসুমে তারা সবজি চারা উৎপাদন করে যা আয় করে তা দিয়ে চলে সারা বছরের সংসার খরচ। এ গ্রামের ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসছে সবজির চারা উৎপাদন। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে তারা ৫০ কোটি টাকা আয় করবেন এবার। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কেউ চারায় পানি দিচ্ছেন, কেউ চারা তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের গাড়িতে চারা তুলে দিচ্ছেন চাষিরা। পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে নানা জাতের সবজির চারা।

এ গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা। এক দফা চারা বিক্রি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নতুন করে বীজ বপনের প্রস্তুতি। এখানকার চারা যাচ্ছে দেশের ৩৪ জেলায়। এসব চারায় চাষাবাদ করেন চাষীরা। 

চাষিরা জানান, এখন চারা বিক্রির মূল মৌসুম। অথচ এ সময়েই দেখা দিয়েছে সেচের সংকট। আবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারা উৎপাদন। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহের পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও তাদের।

এ গ্রামের চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন থেকেই কৃষকদের অন্যতম বেশি আয় হয়। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে তারা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। বিশেষ করে ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে চারা উৎপাদন আরও বিস্তৃত করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

আবদুল কুদ্দুস নামে আরেক চাষী বলেন, ‘১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, ‘চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রঙিন মাছ চাষে আব্দুল্লাহর সাফল্য

1

পর্যটন শহরের প্রবেশদ্বারে ময়লার ভাগাড়

2

গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু

3

ইটভাটায় কোনভাবেই ইট পোড়ানো যাবে না-পরিবেশমন্ত্রী

4

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় গাছ বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্য স

5

পাট নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের চাষীরা

6

আল-আরাফাহ ব্যাংক ফিরিলো পুরোনো মালিকদের হাতে

7

হাঁস পালনে আতাউরের ভাগ্য বদল

8

সিলিকাযুক্ত চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে শহর থেকে গ্রামে

9

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়

10

কুমিরের কামড়ে বৃদ্ধ আহত

11

খালের নেটপাটা অপসরন করলো স্থানীয়রা

12

জলাবদ্ধ পততি জমতিে ভাসমান সবজি চাষ

13

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি

14

পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া, আমদানি অনুমতি চারগুণ বাড়লো

15

সবজির চারা বিক্রিতে ভাগ্য ঘুরছে কৃষকদের

16

২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ সরকারের

17

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

18

চরাঞ্চলে অর্গানিক কৃষির সূচনা করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

19

চাঁদপুরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক সভা

20