নিজস্ব প্রতিবেকঃ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি বলেছেন, আইনপ্রণেতা হিসেবে কার্যকর আইন প্রণয়ন, সংসদীয় তদারকি শক্তিশালী করা এবং বাজেট বরাদ্দে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর ফুটিয়ে তোলা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ফোরামের মাধ্যমে একটি জলবায়ু-সহনশীল, জ্বালানি সুরক্ষিত ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের কাজ করতে হবে।
আজ (রবিবার) রাজধানীস্থ প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সংসদীয় ফোরাম এর অধীনে “বাংলাদেশে জলবায়ু ও জ্বালানি এজেন্ডা প্রণয়নঃ একটি সংসদ সদস্যদের সংলাপ”প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্য ও কৌশল নির্ধারণের জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী আলোচনা সভায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি এবং মূল আলোচক হিসাবে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মোঃ সাইমুম পারভেজ। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি এবং ফজলে হুদা বাবুল, এমপি।
বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে স্পীকার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ দেশের মানুষ অভূতপূর্ব সক্ষমতা দেখিয়েছে। জলবায়ু সংকটের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত করা এবং উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া একটি নৈতিক দাবি।
স্পীকার এসময় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতি পূরণ আদায়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য সংসদ-সদস্যদের আহ্বান করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রূপান্তরিত জ্বালানি নিয়ে কাজ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসাথে, আগামী ৪ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ইতোমধ্যে এ বছর সরকারি অর্থায়নে তিন কোটি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের জন্য শুধু আমরাই দায়ী নই। এক্ষেত্তে উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর অনেকাংশে দায় রয়েছে।
আলোচনায় আমন্ত্রিত সংসদ-সদস্যগণ ও দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞগণ তাদের মত বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে সাউথ এশীয় আঞ্চলিক সংসদীয় ফোরামের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কৃ/স/জয়