কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বেদখল চট্টগ্রমের ৫৫ হাজার একর বনভূমি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতাঃ 
চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের প্রায় ৫৫ হাজার ১২৩ একর বনভূমি এখন বেদখলে। এতে সংকুচিত হচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, কমছে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য। ফলে বেদখল বনভূমি উদ্ধার এখন বন বিভাগের চ্যালেঞ্জ নয়, একই সঙ্গে এখানকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ইকোট্যুরিজমের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কার জায়গা তৈরি করেছে।

পাহাড়, বন, নদী আর বন্যপ্রাণীর অপার বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ চট্টগ্রামের বনাঞ্চল। চট্টগ্রাম, কঙ্বাজার ও বান্দরবানÑএ তিন জেলা নিয়ে গঠিত বন বিভাগে রয়েছে প্রায় সাড়ে আট লাখ একর বনভূমি, যার প্রায় ছয় লাখ একরই সংরক্ষিত বনভূমি। এখানকার জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলোয় রয়েছে কয়েক হাজার প্রজাতির বিরল ও বিপন্ন উদ্ভিদ, পাখি, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী ও উভচর প্রাণী। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠছে বৃহত্তম ইকোট্যুরিজম। পাহাড়ি বন, বন্যপ্রাণী, ঝরনা, নদী, সমুদ্র ও বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতিই এ অঞ্চলের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। তবে সম্ভাবনার এ বন এখন ক্রমে হারাচ্ছে তার জমি ও প্রাণবৈচিত্র্য।

চট্টগ্রাম বন সংরক্ষক কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে মোট বনভূমির পরিমাণ ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯১ একর, যার মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২ লাখ ২০ হাজার ৫৭৮ একর। এ জেলায় মোট বেদখল হওয়া বনভূমির পরিমাণ ৩৩ হাজার ৬২০ একর। এদিকে কঙ্বাজার জেলার দুই বিভাগে মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ একর বনভূমির মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯৬ একর। মোট বেদখলি বনভূমির পরিমাণ ১৯ হাজার ৮৬২ একর।

অন্যদিকে বান্দরবান, লামার তিন বন বিভাগের আওতায় থাকা ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭ একরের মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৩৫ একর। মোট বেদখল বনভূমির পরিমাণ ১ হাজার ৬০২ একর। এছাড়া বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের মোট বনভূমির পরিমাণ ১ হাজার ৯৯৬ একর, যার পুরোটাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল। অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলের মোট ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৯৬৮ একর বনভূমির মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৩০৫ একর বা ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ বনভূমিই সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সংরক্ষিত ছাড়াও ১ লাখ ১০ হাজার ৭০৭ একর বা ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বনভূমিই রক্ষিত বনভূমি।

বন গবেষকরা বলছেন, দখলসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড়ে কৃষি সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো নির্মাণে বনভূমির ব্যবহার ক্রমেই সংকুচিত করছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। একই সঙ্গে কমছে দুর্লভ ও দেশীয় উদ্ভিদ প্রজাতি। ফলে মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণীসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য এখন ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে।

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য কিংবা ইকোট্যুরিজম স্পটে থাকা বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এখন মহাবিপন্ন তালিকায় চলে গেছে। যার মধ্যে অনেক বন্যপ্রাণী এখন কমে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাতি শিয়াল, গোরখাদক, মেছো বিড়াল, মুখপোড়া হনুমান, উল্লুক, গেছো ভাল্লুক, মায়া হরিণ, বনরুই, উদ, রাজ গোখরা, বার্মিজ অজগর, গোলবাহার, হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ, ডিরা কাছিম, কড়ি কাইট্টা, এশিয় শিলা কচ্ছপ, গাঙ্গেয় ডলফিন, লজ্জাবতী বানর, সাম্বার হরিণ উল্লেখযোগ্য।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের হাতি বিশ্বে এশিয়ান হাতি নামে পরিচিত। এ হাতি আইইউসিএনের লাল তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। আইইউসিএনের সর্বশেষ ২০১৬ সালের তথ্য বলছে, দেশে মোট ২৬৮টি হাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে হাতি চলাচল করায় নির্দিষ্ট করা যায়নি কোন এলাকায় কতটি হাতি আছে।

চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বন বিভাগগুলোয় মোট ৭১টি রেঞ্জ ও ১৭০টি বন বিটে বন সংরক্ষক, উপবন সংরক্ষক, সহকারী বন সংরক্ষক, ফরেস্ট রেঞ্জার, ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার, ফরেস্টার, ফরেস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন পদক্রমে ২ হাজার ২৮৪ পদের বিপরীতে ১ হাজার ১৮৪ জন কর্মরত। শূন্য পদ আছে ১ হাজার ১০০টি। সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গা হলো চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৯৬৮ একর বনভূমি রক্ষার জন্য ফরেস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করেন মাত্র ৫৭২ জন। অর্থাৎ গড়ে একজন ফরেস্ট গার্ড পাহারা দেন ১ হাজার ৪৯৭ একর বনভূমি, যা খুবই বিস্ময়কর। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে ৮০২টি পদ থাকলেও সেখানে খালি আছে ২৩০টি পদ।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার ১২৩ একর বনভূমি এখনো জবরদখল আছে। তবে মোট বনভূমির প্রায় ৮৩ দশমিক ৬৬ শতাংশই সংরক্ষিত ও রক্ষিত। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমি দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনের মধ্যে দুর্লভ বা বিলুপ্ত প্রজাতির বৃক্ষ, গুল্ম, বাঁশ ও বন্যপ্রাণী আছে।
 বিশেষ করে হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মেধাকচ্ছপিয়া, সাংগু-মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন, ধোয়াপালং-হেমছড়ি জাতীয় উদ্যান, জাহাজপুরা-শিলখালীসহ বিভিন্ন অভয়ারণ্যে দেশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করে চলছে। সে কারণে এ অঞ্চলের বন সংরক্ষণ করা জরুরি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছাতকে চুন কারখানায় বিপন্ন পরিবেশ

1

নারকেল ছোবড়া থেকে আনসার সদস্যর কোকোপিট তৈরি

2

অস্তিত্ব সংকটে বাঁশশিল্পের ঐতিহ্য

3

পানি বাড়লেই বন্যা, কমলেই ভাঙন: আতঙ্কে কাজিপুরে লাখো মানুষ

4

কালীগঞ্জের কাঁকরোল যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

5

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

6

হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা

7

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন

8

শাহী পেঁপে চাষে সাইদুরের ভাগ্য বদল

9

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের চারা বিতরণ

10

জলজ প্রাণী রক্ষায় সুন্দরবনে ১০ খালের মুখে কাঠের বেড়া

11

বৈদ্যেরবাজারে দেশি মাছের জমজমাট কেনাবেচা

12

বন্ধ হচ্ছে এক দিনের বাচ্চা আমদানি, পক্ষে বিপক্ষে মত

13

আলুর পর করলাতেও লোকসান

14

লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ

15

৫৫ লাখ পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন

16

৫ জেলে আটক,মাছ-নৌকা জব্দ

17

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

18

মাছের রেণু পোনা উৎপাদনে সফল রেখা

19

লালপুর ডাব বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

20