মাদারীপুর সংবাদদাতাঃ
মাদারীপুরের শিবচরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্ম নধীতে চলছে ইলিশ শিকার। আবার সেই মাছ নদীপাড়েই হাট বসিয়ে প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে ডিম ওয়ালা ইরিশ মাছ।
মঙ্গলবার পদ্মাবেষ্টিত শিবচরের বন্দরখোলা, মাদবরেরচর চায়না খাল, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মাপাড়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায়।
তবে আইন অমান্য করে বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা ও চরজানাজাতের হিরা খাঁ এলাকায় প্রতিদিন ভোরে পদ্মায় সারা রাত ধরা ইলিশ নিয়ে ঘাটে ভিড়ছে ট্রলার।
ঘাটে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যস্বত্বভোগীরা তা কিনে নদীর পাড়েই অস্থায়ী হাট বসিয়ে বিক্রি করছেন। হাটে প্রতি কেজি বড় ইলিশ ১,৬০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের এই হাটকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে আচার, শরবত ও নানা খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে প্রতিটি জেলে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে জাল কিনেছেন। এখন মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সেই ঋণ শোধের কোনো উপায় থাকে না। সংসার ও ঋণের চাপে বাধ্য হয়েই তারা মা ইলিশ শিকারে নামছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক অভিযান এড়াতে অসাধু চক্রটি শক্তিশালী নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। শিবচরের মূল ভূখণ্ড থেকে পুলিশ বা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই চরাঞ্চলের সতর্ককারীরা তথ্য পৌঁছে দেয়।
ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই জেলেরা ট্রলার নিয়ে কাশবনে বা মাঝনদীতে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, শেখপুরসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা শাহ আলম মুন্সি বলেন, টাটকা মাছ ও পছন্দমতো নেওয়ার সুযোগ থাকায় তিনি সস্তায় ইলিশ কিনতে এখানে ছুটে এসেছেন।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, জনবল সংকটের কারণে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম থেকে আইনি পদক্ষেপ আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃ/স/জয়