নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ে নতুন মাত্রা
যোগ হলো শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার (এসএসি)
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা করেছে ‘এসএসি বুক কর্নার’, যা আঞ্চলিক গবেষক, শিক্ষার্থী
ও নীতিনির্ধারকদের একত্রে এনে সমৃদ্ধ করবে যৌথ জ্ঞানচর্চা ও সহযোগিতার পরিসর।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য
দিয়ে বুক কর্নারটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের
পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচার (পিজিআইএ)-এর পরিচালক প্রফেসর ডি. কে.
এন. জি. পুষ্পাকুমারা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য
তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে এবং একাডেমিক সম্পৃক্ততায় নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের
কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন (এআরডি) ও সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এসডিএফ) শাখার পরিচালক তানভীর
আহমদ তোরোফদার। তার উপস্থিতি সার্ক ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৃষি ও উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের
প্রতি সার্ক নেটওয়ার্কের অঙ্গীকারকে আরও স্পষ্ট করে।
এছাড়া অংশ নেন সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড.
মো. হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আঞ্চলিক একাডেমিক সহযোগিতা গভীর করতে এসএসি বিভিন্ন উদ্যোগ
গ্রহণ করছে। ড. হারুন উল্লেখ করেন, জ্ঞান ভাগাভাগির এই প্ল্যাটফর্মগুলোই প্রমাণভিত্তিক
নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখে থাকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় পর্যায়ের
সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও দৃঢ় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এসএসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
শ্রীলঙ্কার কৃষি অধিদফতরের মহাপরিচালক ও এসএসি গভর্নিং
বোর্ড সদস্য ড. ডব্লিউ. এ. আর. টি. বিক্রমারাচ্চিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের
উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় গবেষণা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে
কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে এসএসি’র সিনিয়র কর্মকর্তা এবং পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের
একাধিক শিক্ষক-গবেষক উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন ড. মো. ইউনুস আলী, সিনিয়র প্রোগ্রাম
স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক), এসএসি। তারা সবাই জানান, যৌথ জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম গবেষক
এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করে।
উদ্বোধিত এসএসি বুক কর্নার সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের
প্রকাশনা, গবেষণা প্রতিবেদন এবং জ্ঞানসম্পদ নিয়ে গঠিত একটি বিশেষায়িত হাব হিসেবে কাজ
করবে। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি উদ্ভাবন, জলবায়ু সহনশীলতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়ন
বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও ভিজিটিং
স্কলারদের জন্য।
মন্তব্য করুন