কুষ্টিয়া সংবাদদাতাঃ
সরু চালের সর্ববৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকলগুলোতে অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কবলে উৎপাদনে ধ্বস নেমেছে। এতে একদিকে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন মিলাররা। অন্যদিকে এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে চালের দামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার চাল কলগুলো এখন দিনের বেশিরভাগ সময বন্ধ থাকছে। উৎপাদন না থাকায় কলের শ্রমিকরা এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন। লোডশেডিংয়ের কারনে দেশের অন্যতম এই চাল মোকামের মিলগুলোতে এ অবস্থার সৃষ্টি। অথচ অন্যসময় কর্মমুখর ব্যস্ত সময় কাটায় তারা। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগের আওতায় থাকা মিলগুলো বেশি সংকটে পড়েছে।
কুষ্টিয়ার বল্লভপুর অবস্থিত এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চালকল স্বর্ণা অটোরাইস মিলের কর্ণধার আব্দুস সামাদ জানান, শ্রমিকরা বিদ্যুৎ বন্ধ দেখে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। বেতন তাদের ঠিকই দিতে হচ্ছে কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে না। মিলে প্রতিদিনের উৎপাদন ছিল প্রায় ৯০ টন চাল। সেখানে তেল পুড়িয়েও ৩০ টনের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আর ডিজেল পুড়িয়ে উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়েছে।
গোল্ডেন রাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, উৎপাদনের সময় যখন ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের দেকা দেয় তখন মেশিনে অর্থাৎ প্রোডাকশনে থাকে যে প্রোডাক্টগুলো (ধান) সেগুলো প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। এজন্য বাই প্রোডাক্ট বেড়ে যাচ্ছে। তাতে চালের উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট। গত দুয়েক সপ্তাহ ধরে চাহিদার বিপরীতে ৪০ কিংবা ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এ অবস্থা কতদিন থাকবে তা জানা নেই।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, চালকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে মিটিং করেছি। আশা করছি, দ্রুতই সমাধান দিতে পারব। চালের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
কৃ/স/জয়