চট্রগ্রাম সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ১৬ একর পাহাড় এখন বিলীন হতে চলেছে। ফলে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য, পাহাড়ি উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ইয়াছিন পাড়া এলাকায় চলছে এই পাহাড় কাটার যজ্ঞ।
জানা যায়, এখানকার ১৬ একর জায়গায় শ্যােেলা মেশিন বসিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল গত দুই সপ্তাহ ধরে এ কাজ করছেন। এর জন্য তারা ব্যবহার করা হচ্ছে শ্যালো মেশিন। পাশের পোলং খাল থেকে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে পাহাড়ের পাদদেশে ফেলা হচ্ছে। পানির প্রবল চাপে পাহাড়ের মাটি ধীরে ধীরে আলগা হয়ে ভেঙে একটি গর্তে জমা হয়। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বালুমিশ্রিত পানি বের হওয়ার পর আরেকটি শ্যালো মেশিনের সাহায্যে তা সামান্য দূরের একটি স্থানে ফেলা হচ্ছে। সেখানেই তৈরি হচ্ছে বালুর স্তূপ। পরে সেই বালু বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অংকের টাকায় চলছে এই কর্মকান্ড। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাহাড়ের গাছপালা ধ্বংস হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাহাড় কাটা চলতে থাকলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী আরিফ উল্লাহ বলেন, পাহাড় কাটা ও গাছপালা ধ্বংসের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় থাকা পাখি, সরীসৃপ, কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, পাহাড় কাটা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃ/স/জয়