কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জমজমাট সাপাহার আম বাজার

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ দেশের সর্ববৃহৎ নওগাঁর সাহাপার আমের হাটে মৌসুমের শেষ সময়ে জমে উঠেছে আমের কেনা-বেচা। প্রতিদিন এ হাটে বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম। অসময়ে দ্বিগুন দাম পেয়ে খুশি এখানকার আম চাষীরা। 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। চলতি বছর জেলায় প্রায় ৬  হাজার কোটি টাকার আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যের আশা।

সাপাহার আমের হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভরা মৌসুমের মতোই চাষিরা ভোর থেকেই হাটে বিভিন্ন বাহনে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে লম্বা লাইন ধওে বসে আছেন। সরবরাহ কম থাকায় চাষি আর ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে দরদামের হাক ডাক। 

এই হাটে বর্তমানে বাজারে বারি-৪, আশ্বিনা, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, গৌড়মতি, কাটিমন আম কেনাবেচা হচ্ছে। তবে আম্রপালি আম অল্প কিছু পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আম্রপালি আম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্যানানা ম্যাঙ্গো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা মণ। বারি-৪ আম ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা মণ। আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। গৌড়মতি ও কাটিমন আম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

হাটে আম বিক্রি করতে আসা চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে এবার আমের দাম কম ছিলো। তবে আমের মৌসুম শেষ পর্যায়ে চলে আসায় দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও আম উৎপাদনে যে পরিমান খরচ হয়েছে সেই তুলনায় প্রথম দিকে আম বিক্রি করে অনেকের লোকসান হয়েছে।

আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর প্রচণ্ড গরমে প্রায় সব আমই প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই পাকতে শুরু করে। ফলে ভরা মৌসুমে আমের দাম কম ছিলো। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বাজারে আমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। যতদিন যাবে আমের সরবরাহ কমবে, দাম বাড়বে।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন,আমের মৌসুম এখন শেষভাগে। শুধু নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাওয়া যাচ্ছে। সাপাহারে বর্তমানে অল্প কিছু আম্রপালি পাওয়া গেলেও সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। যত দিন যাবে আম সরবরাহ কমবে, দাম বাড়বে। শেষ সময়ে চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, নওগাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলভুক্ত এলাকা। মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণেই এখানকার আম প্রচুর সুস্বাদু হয়। শেষ মুহূর্তে এসে চাষীরা বেশি দামে আম বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছেন। লেট ভ্যারাইটিজ আম চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় চাষিদের লেট ভ্যারাইটিজ আম চাষের কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে মৌসুম শেষে ভালো দাম পায়।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

1

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে-মৎস্য ও প্রাণিসম্

2

বজ্রপাতে মারা গেলো দুজন

3

মাছ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে দুই অভয়াশ্রম

4

কৃষি সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন রফিকুল ই মোহামেদ

5

এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

6

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

7

ব্রি’র অর্গানিক সার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে ইউরিয়ার ব্যবহার

8

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

9

দোহারে রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে ময়লা আর্বজনা

10

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

11

চাঁদপুরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক সভা

12

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপন

13

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

14

মেহেরবানি করে চাঁদাবাজি করবেন না, রাজশাহীতে কর্মী সম্মেলনে জ

15

রেণুপোনায় ভাগ্য বদলাচ্ছে তাদের

16

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

17

সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল দাবি

18

পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি আরও বাড়লো

19

মালয়েশিয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রপ্তানির সম্ভাবনা

20