যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরের অভয়নগরের মাঠে মাঠে এবার খিরা-শসার ভাল ফলন হয়েছে। বাজারে চড়া দাম ভাল ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত খিরা-শসা যাচ্ছে সারা দেশের বাজারে।
অভয়নগরের হিদিয়া, বর্ণী, মালাধারা, দিঘিরপাড়, চাকই, নওয়াপাড়া, বাগদাহ, চেংগুটিয়া, বাহিরঘাট ও প্রেমবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরের পাড়ে দেশীয় জাতের খিরা, শসা, বরবটি ও শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
মালাধরা বাজার ও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা খিরা ও অন্যান্য সবজি নিয়ে বাজারে আসছেন। বাজারে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে হচ্ছে খিরা-শসা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসব খিরা-শসা কিনে ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছেন। টানা চার থেকে পাঁচ মাস এ বাজারে প্রতিদিন এভাবে চলবে কেনা-বেচা।
মালাধরা বাজার ছাড়াও উপজেলার হিদিয়া, দিঘিরপাড়, চাকই, নওয়াপাড়া, বাগদাহ, চেংগুটিয়া, বাহিরঘাট ও প্রেমবাগ এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ খিরা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি এ বাজারে আসে।
উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও সংরক্ষণাগারের অভাব এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ সড়কের কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ খিরা ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। বর্তমানে দাম কমে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। ভালো ফলনের কারণে লাভের আশা করছি।
মালাধরা বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আমজাদ আলী বলেন, গত আট বছর ধরে সকলের সহযোগিতায় মালাধরা খাজনা হাট পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে প্রতিদিন এ বাজারে ৮ থেকে ১০ ট্রাক দেশীয় জাতের খিরা বিক্রি হয়।
অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, এ অঞ্চলে সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল প্রতিদিনই বিক্রি করতে হয়। আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে উঠলে কৃষকরা আরও ভালো দাম পেতেন এবং তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসত।
কৃ/স/জয়