কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে এক জমিতে ৪ সবজির চাষ

টি এম কামাল,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জে এবার এক ফসলি জমিতে বেগুনসহ গ্রীষ্মকালীন ৪ রকমের সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ চাষে ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে উল্লাপাড়া, কাজিপুর, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া যমুনার তীরবর্তী বিভিন্ন চর এলাকায় লাভজনক এ সবজির চাষাবাদ করেছেন কৃষকেরা। এসব সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাঁটা ও ঢেঁড়স। তবে প্রায় ৩ মাস আগে কৃষকেরা বেগুনসহ এসব সবজির চাষাবাদ করেন। ইতোমধ্যেই এসব সবজি হাট-বাজারে ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

বিশেষ করে এক ফসলি জমিতে বেগুন চাষ করে এবং বেশ কয়েক মাস বেগুন বিক্রি করে অনেক কৃষক লাভবান হয়েছেন। অধিক লাভের আশায় ওই জমিতে লাগানো বেগুন গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাউ, কুমড়া ও ঢেঁড়স চাষাবাদ করা হয়েছে। এ ৩টি সবজি বেগুন গাছে গাছে ছেয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই এক ফসলি জমিতে ৪ রকমের গ্রীষ্মকালীন সবজি বিক্রিও শুরু হয়েছে হাট-বাজারে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এ সবজি চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা এ চাষে বেশি ঝুঁকছেন। অনেক কৃষক বারোমাসি বেগুন (হাইব্রিড) চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এ চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আয়নাল সেখ এক ফসলি ২৪ ডেসিমাল জমিতে বেগুন চাষ করেন। কয়েক মাস বেগুন বিক্রির পর একই জমিতে লাউ, কুমড়া ও ঢেঁড়স চাষাবাদ করা হয়েছে। এক জমিতে ৪ রকমের সবজি চাষ করে ইতোমধ্যেই স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে। এ গ্রামসহ আশপাশ গ্রামের অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক অনুরূপ চাষাবাদ করেছেন। বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, প্রতি পিস লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রীষ্মকালীন বেগুনসহ সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। একই সঙ্গে এক জমিতে ৪ রকমের সবজি চাষে অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছেন। এ চাষে কৃষি বিভাগ থেকেও তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ সবজির চাষ বেশি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে বেগুনসহ সবজির দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

1

পুকুরে পাট জাগ দিতে বিঘায় নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা

2

মৎস্য অভয়াশ্রমে ফিরছে দেশীয় মাছ

3

হাঁস পালনে আতাউরের ভাগ্য বদল

4

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’,

5

রাজশাহীতে বেড়েছে পাটের আবাদ

6

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

7

বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে আসছে ইটিপি ব্যবস্থা

8

জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে নেতৃত্বে বাংলাদেশ

9

দুই-এক দিনের ভিতরে সার সমস্যার ঠিক হয়ে যাবে- কৃষিমন্ত্রী

10

বরেন্দ্রে ১৭ জাতের দেশি কলার বিস্তার

11

বোয়ালখালীর কৃষকরা আমনের রোপণে ব্যস্ত

12

৭ টন নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ

13

আশরাফুলের এক শসা ৫ কেজি

14

হরিণের মাংস সহ আটক এক

15

অন্ধকারে ৭২১ কোটির ‘কৃষক স্মার্টকার্ড’ কার্যক্রম

16

মৎস্য গবেষণার মহাপরিচালক হলেন লতিফুর রহমান

17

চাষির ফলন্ত পেঁপে গাছ কেটে সাবাড়

18

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২,৭২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

19

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

20