কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১০ বছরে জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ 
ময়মনসিংহে দ্রুত কমছে কৃষি জমি। শিল্প কারখানা,দ্রত নগরায়ন সহ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কারনে ১০ বছরে কৃষি জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর। কৃষিজমি কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের জীবিকা ও পরিবেশ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় এক সময় যেখানে মাঠজুড়ে ছিল সবুজের সমারোহ। সেখানে এখন গড়ে উঠছে কলকারখানা, বসতবাড়ি আর পাকা সড়ক। এভাবেই দ্রুত কমছে কৃষি জমি।

সবচেয়ে বেশি কৃষিজমি হারিয়েছে শিল্পনগরী ভালুকা। ভালুকা শহর লাগোয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের বাঘসাতরা এলাকায় ৬৫ বিঘা জলাশয় বালু ফেলে করা হচ্ছে ভরাট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এখানে গড়ে তোলা হবে বিশাল কারখানা। যেখানে গত কয়েক বছর আগেও উৎপাদন করা হতো ধান। উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ এখন গিলে খাচ্ছে কল-কারখানা।  এভাবেই কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। এতে কমছে ফসলের উৎপাদন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, যে জায়গাটি বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। সেখানে ১০ বছর আগেও ধান হয়েছে। এরপর করা হয়েছে মাছ চাষ। এখন করা হচ্ছে কল কারখানা। এভাবেই আমাদের এলাকার কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা কোম্পানির জায়গায় এক সময় ধান, পাট, মাছ চাষ এবং গরুর খামার ছিল। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে করা হয়েছে কোম্পানি।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮২৩ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আবাদি জমি কমেছে ৬৪৯ হেক্টর, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৪১৬ হেক্টর, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৪২৫ হেক্টর, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৪৩২ হেক্টর, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৬৯৮ হেক্টর, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২০২৩ হেক্টর, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৬২৮ হেক্টর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৫৭১ হেক্টর এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমেছে ৪৫৭২ হেক্টর আবাদি জমি।

ভালুকায় ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ এই ছয় বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে ৪ হাজার ৬০৭ হেক্টর। ২০২০ সালে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৮৬৯ হেক্টর।

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকতা নুসরাত জামান বলেন, প্রতিনিয়ত ভালুকায় কলকারখানা হচ্ছে। এতে করে কমছে কৃষি জমি। অনেক সময় চাপে পড়ে কৃষি জমিয়ে অকৃষি দেখিয়ে আমাদের প্রত্যয়ন দিতে হচ্ছে।

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, জেলার কোন জমিকেই অকৃষি জমি বলা যাবে না। এসব জমিকে কোনো না কোনো ফসল কিংবা মাছ চাষ হয়ে থাকে। জমি রক্ষায় আইনও মানা হচ্ছে না। চাপে পড়ে অনেক সময় কৃষিজমিকে অকৃষি দেখিয়ে প্রত্যয়ন দিতে হচ্ছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত কমছে কৃষিজমির পরিমাণ।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবানে পহাড়ধস বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

1

খাল খনন শেষে ফেরত দেয়া হলো ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

2

খাল খননে ফিরল কৃষির সুদিন

3

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২২ কেজির ধাতিনা ভোল

4

অস্থায়ী রিং বাঁধে ৩৮ বছর ধরে কৃষকের ক্ষতি

5

কাজিপুরে দাম না থাকায় কমছে কাউনের চাষ

6

ধানের ‘ক্লোনিং’ প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য, বীজ কোম্পানির

7

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

8

বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

9

বৃক্ষ মেলায় একটি বনসাই দেখতে ভিড়

10

পানি বাড়লেই বন্যা, কমলেই ভাঙন: আতঙ্কে কাজিপুরে লাখো মানুষ

11

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

12

সাতক্ষীরায় জিরার দাম কমেছে

13

বৃষ্টিতে কোটি টাকার সবজির চারা নষ্ট

14

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

15

বালাইনাশক খাত যুগোপযোগী করতে কমিটি গঠন

16

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ডেউয়া

17

গ্রিসে স্ট্রবেরি খাতে বাংলাদেশিদের দাপট

18

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

19

পাহাড়ে বন উজাড় করে কচুরমুখী চাষ

20