কৃষি সময় ডেস্কঃ
উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সাথে প্রতিযোগীতা করে আন্তর্জাতিক বাজারে আলু রপ্তানির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে রাসায়নিক অবশিষ্টাংশের উপস্থিতি নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের আপত্তি। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনাময় এই কৃষিপণ্যের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে।
জানা যায়,২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৫৮৬ টন আলু রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪১ হাজার টনের বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
শুধু আলু নয়, সামগ্রিক সবজি রপ্তানিতেও বড় ধস নেমেছে। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৪৪৭ দশমিক ১৬ টন সবজি রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা প্রায় ২৪ হাজার টন (৩৮ শতাংশ) কম। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবজি রপ্তানিতে ৪৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
তবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া সবজির মধ্যে এখনও আলুর অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির হওয়া মোট সবজির মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশই ছিল আলু।
আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির জন্য কয়েক মাস আগেই বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। কিন্তু চুক্তির পর দেশের বাজারে আলুর দাম বেড়ে গেলে রপ্তানিকারকদের সংগ্রহ ও উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তখন আগের নির্ধারিত দামে বিদেশি ক্রেতাকে আলু সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রপ্তানিকারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন পণ্যের দাম। ভারতের তুলনায় দেশে আলু উৎপাদন ও পরিবহনে খরচ বেশি। ইউরোপ ও কানাডার বাজারে বাংলাদেশ থেকে আলু পাঠাতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। অস্ট্রেলিয়ায় খরচ পড়ে সাড়ে ৫ থেকে ৬ ডলার। বিপরীতে ভারত থেকে একই বাজারে আলু পাঠাতে প্রতি কেজিতে খরচ হয় প্রায় আড়াই থেকে ৩ ডলার। শুধু পরিবহন ব্যয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ফ্রেস ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড প্রোডাক্টস এঙ্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রানা জানান, ‘একসময় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ আলু রপ্তানি হতো। কিন্তু আলুতে রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়ার অভিযোগে অনেক দেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিমান ও সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সবজির বাজার মূলত চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে চীন বা ভিয়েতনামে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাংলাদেশ থেকে সবজির চাহিদা বাড়ে। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে দামের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর দিয়ে আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজি রপ্তানি হয়। বিশ্ববাজারে সবজির চাহিদার পাশাপাশি গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানির আগে গবেষণাগারে পণ্যের মানমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। রপ্তানি পণ্যে রাসায়নিকের মাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যে না থাকলে অনুমতি দেওয়া হয় না। বিদেশি ক্রেতারাও বাজারে পণ্য গ্রহণের আগে পরীক্ষা করেন। তাই রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশযুক্ত সবজি রপ্তানির সুযোগ নেই।
কৃ/স/জয়