কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মহিষের খামারে মহসীনের ভাগ্য বদল

দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ 
দিনাজপুরে মহিষ ও গরুর খামার করে ভাগ্য বদলেছে এক উদ্যোক্তার। কয়েকটি গরুর দিয়ে খামার করে লাভের টাকায় এখন তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল মহিষ ও গরু মোটা তাজা করণ খামার। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয়দের। সফল এ উদ্যোক্তার নাম মীর মহসীন আলী চৌধুরী। তিনি কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

জানা যায়,সফল এই খামারী এক সময় একটি কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। চাকুরী ছেড়ে ২০১৬ সালে মাত্র ১৩ টি দেশি গরু নিয়ে খামার শুরু করেন। নিজের শ্রম আর মেধা কাজে লাগিযে তিনি সফল হতে থাকেন। খামারের গরু বিক্রি করে ভাল লাভের মুখ দেখায় তিনি এর পরিধি বাড়াতে থাকেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

এখন তিনি ১০৭ শতক জমির উপর নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘পৃথ্বী এগ্রো’ নামে বিশাল মহিষ ও গরু মোটাতাজা করণ ফার্ম। যেখানে রয়েছে ভারতীয় সংকর জাতের ৫২টি মহিষ আর ৪৫ টি বিভিন্ন জাতের গরু। 

খামারের বিশাল বিশাল শেডের নিচে এসব গবাদিপশু গুলোকে রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিক তাদের দেখাশোনার কাজ করছেন। 

খামারে ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। কেউ খড় কাটেন, কেউ দানাদার খাদ্য মিশিয়ে পশুর খাবার প্রস্তুত করেন।  কৃত্রিম ঝরনার নিচে সারিবদ্ধভাবে গোসল করানো হয় মহিষকে। 

তিন মাস পরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে পশু বিক্রি করেন মহসীন। এরপর কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রাজশাহীর সিটি হাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে গরু-মহিষ কিনে এনে মোটাতাজ করে আবার বিক্রি করেন। এভাবে পশু মোটাতাজা করে মহসীন প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা আয় করছেন। যা এখন তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। 

খামারের পশুদের জন্য প্রায় আট বিঘা জমিতে মহসীন নিজেই নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন নিয়মিত ঘাস সরবরাহ করেন। যা খাামরের গরু মহিষকে খাওয়ানো হয়। 
খামারে গরু-মহিষকে খড়, ভুসি, খইল, নেপিয়ার ঘাস, প্রাকৃতিক ঘাস ও সাইলেজ (সাইলেজ হলো ভুট্টাগাছ কেটে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা পশুখাদ্য) খাওয়ানো হয়।

খামারের উদ্যোক্তা মহসীন বলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে কয়েক বছর চাকরি করেছি, কিন্তু মন বসছিল না। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে গরু-ছাগল পালন করতে দেখেছি। তাই সাহস করে অল্প পুঁজি নিয়েই খামার শুরু করি। তখন জমি ছিল ৫০ শতক। এই কয়েক বছরে খামারের আয়ে ধীরে ধীরে আরও ৫৭ শতক জমি কিনেছি। নির্মাণ করেছি দুটি নতুন শেড ও একটি গুদামঘর।

বর্তমানে খামারে মাসিক বেতন ও দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ জন কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সারা দিন যত কাজই করি না কেন, খামারে এসে দাঁড়ালে একধরনের মানসিক প্রশান্তি পাই। পশুগুলোর সঙ্গে সময় কাটানোই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।

কাহারোল উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সরফরাজ আলী বলেন,উপজেলায় এটিই একমাত্র মহিষের খামার। শুরু থেকেই আমাদের পরামর্শ নিয়ে মহসীন খামারটি গড়ে তুলেছেন। বয়স ও ওজনভেদে খাদ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত টিকাদান ও পরিচর্যার বিষয়ে তাঁকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আমরাও নিয়মিত খামার পরিদর্শন করি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অনেক মানুষ এখন ছোট পরিসরে গরু পালন শুরু করেছেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে সবজি চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকদের

1

সাড়া ফেলেছে ভেষজ লেমন ঘাসের চা পাতা

2

জলাবদ্ধতায় ২শ বিঘা জমিতে চাষাবাদ বন্ধ

3

কীর্তনখোলা নদীতে মাটি উত্তোলন: বার্জ ও এঙ্ক্যাভেটরসহ আটক ৬

4

গলদা -বাগদা চিংড়ি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উৎপাদন বাড়াতে হবে

5

বায়ু দুষণঃ মারা যায় ৮৮ হাজার মানুষ

6

খুলনায় খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

7

১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

8

কাঁঠালের খোসা থেকে পরিবেশবান্ধব চামড়া

9

শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

10

পশুপাখির প্রতি শরীফের ভালোবাসা

11

ফরিদপুরে লোকসানের মুখে মরিচ চাষিরা

12

বজ্রপাতে মারা গেলো দুজন

13

সাত অবৈধ বাঁধ অপসারণ

14

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

15

জীবন যুদ্ধে হার না মানা কৃষক সিরাজ শেখের সফলতার গল্প

16

৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য

17

কৃষিপণ্য রপ্তানি করা সরকারের মূল টার্গেট: কৃষিমন্ত্রী

18

নকল কীটনাশক তৈরিতে জেল-জরিমানা

19

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

20