কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের একটি গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক পুুকরে নানা জাতের মাছ চাষাবাদ করা হচ্ছে। এই চাষাবাদের মাধ্যমে গ্রামের চাষীরা তাদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। মাছ চাষাবাদের কারনে রাজারহাট উপজেলার হরিশ্বর তালুক গ্রামের নাম হয়ে গেছে পুকুরে মাছ চাষের গ্রাম।
জানা যায়, কয়েক বছর আগেও গ্রামটির বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ডোবা, বিল ও ধানি জমি। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। পাকা সড়ক ধরে গ্রামে ঢ়ুকলেই চোখে পড়ে একের পর এক পুকুর। কোনোটি ছোট, কোনোটি আবার বিশাল- দেখলে মনে হয় যেন বিলের মতো । বাড়ির চারপাশে পুকুর, পুকুরে মাছ, আর মাছকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে মানুষের জীবিকা। মাছ চাষ বদলে দিয়েছে পুরো গ্রামের অর্থনীতি। অথচ এই গ্রামের মানুষ ছিল অভাবী। এই চাষাবাদে যুক্ত হয়ে তারা এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামটির প্রায় ৭০০ পরিবার সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত। মাছ চাষ ও সংশ্লিষ্ট নানা কাজে জড়িয়ে আছে আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় আড়াই দশক আগে গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের যাত্রা শুরু হয়। ২০০০ সালে ইলিয়াস আলী নামের এক ব্যক্তি প্রথম ধানের জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। তার সাফল্য দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হন। একে একে ধানি জমিতে তৈরি হতে থাকে পুকুর। বাড়তে থাকে চাষির সংখ্যা। তারা তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছের পাশাপাশি পাঙ্গাশ, পাবদা, গুলশা ও ট্যাংরাও চাষ করা করছেন। বছরে একবার বোরো ধান চাষের পর বাকি সময় এসব জমিতে চলে মাছের চাষ।
চাষিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় ৩০০টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বড়, ৭০টি মাঝারি এবং ১৩০টি ছোট পুকুর। এসব পুকুরে বছরে বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদন হচ্ছে। চাষিদের দাবি, বছরে উৎপাদিত মাছের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
উপজেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে, হরিশ্বর তালুক গ্রামে ডোবা ও অন্যান্য জলাশয় বাদ দিয়ে পুকুর রয়েছে ২১১টি। এসব পুকুরে বছরে প্রায় ৭০৩ টন মাছ উৎপাদন হয়।
গ্রামে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক মাছ চাষী জানান,তিনি ২৯ একর পুুকুরে মাছ চাষাবাদ করছেন। আগে তিনি এই জমিতে ধান চাষ করতেন। মাছ চাষ শুরু করার পর আয় বেড়েছে। এখন কয়েকটি পুকুরে নিয়মিত মাছ চাষ করছি।
শাহ আলম নামে আরেক মাছ চাষী জানান, তিনি ২৩ একর পুকুরে নানা জাতের মাছ চাষাবাদ করছেন। যার মাধ্যমে তিনি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করেন।
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, রাজারহাট উপজেলায় পাঁচ হাজারের বেশি পুকুর রয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে হরিশ্বর তালুকের চাষিরা সফল হয়েছেন। তাদের সুনাম এখন পুরো কুড়িগ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ গ্রামের চাষিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
একসময় যে গ্রামের মানুষের জীবনে দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী, সেই হরিশ্বর তালুক এখন মাছকে ঘিরে স্বাবলম্বিতার নতুন গল্প লিখছে। পুকুরের পানিতে শুধু মাছই নয়, ভেসে উঠছে শত শত পরিবারের স্বপ্নও।
কৃ/স/জয়