টাঙ্গাইল সংবাদদাতাঃ
টক বরই বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন সোমলেম উদ্দিন নামে এক উদ্যোক্তা। পঞ্চাশ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা এই বাগানের মাধ্যমে তিনি আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। তার দেখা দেখি অন্যরাও এই চাষাবাদে এগিয়ে আসছেন। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই বরই বাগান।
জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে এই উদ্যোক্তা লেবু সহ বিভিন্ন ফল চাষাবাদ করেন। পরর্বতীতে তিনি ওই এলাকায় প্রায় পঞ্চাশ একর জায়গা নিয়ে টক বরই বাগান গড়ে তোলেন। যখোনে সারি সারি শত শত টক বরই গাছ রয়েছে। তার আগাম টক বরইয়ের প্রতিটি গাছেই ধরেছে পর্যাপ্ত রবই।
বাগানের ভেতর ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক মোসলেম উদ্দিন ও শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ পানি দিয়ে ধুয়ে বরই ঝুড়িতে তুলছেন। আবার কেউ ওজনের নিক্তিতে বরইয়ের বস্তা ওজন করছেন, কেউ বরই বস্তায় ভরে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। মোসলেম উদ্দিন এ বছর এই বাগান থেকে প্রায় কোটি টাকার মতো বরই বিক্রির আশা করছেন।
এসব বরই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত বেপারী মহাজনরা বড় বড় পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য পাইকারি মূল্যে কিনে নিয়ে যান। এ ছাড়াও তার বরই বাগানের টক বরইয়ের চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও। প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কৃষক মোসলেম উদ্দিনের কাছ থেকে টক বরই ক্রয় করে।
বর্তমানে এই বাগানের প্রতি কেজি আগাম টক বরই ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বরই বিক্রি হচ্ছে। বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বরই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি বস্তায় থাকে প্রায় ৫০-৬০ কেজি পর্যন্ত বরই। আগাম সময়ে ও বরইয়ের ভরা মৌসুম জুড়ে প্রায় এক কোটি টাকার বরই বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন কৃষক মোসলেম উদ্দিন।
কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমার ৫০ একর বরই বাগান এখন শুধুই ফলের বাগান নয়, বরং এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম । বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বড়ই, লেবু, মাল্টা, কলা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ফলজ বাগানের মাধ্যমে করে সফলতা অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের মাটি বরইসহ অন্যান্য ফল চাষের জন্য খুবই উর্বর।
সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, দেশি জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে কৃষক মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা সবসময়ই চলমান রয়েছে।
কৃ/স/জয়