বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল সদও উপজেলায় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সুবিধাভোগীদের নামে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। ‘ব্যবসায় উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পে এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়,বরিশাল সদর প্রাণিসম্পদ অফিসের অধীনে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ‘ব্যবসায় উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পে ছাগল উৎপাদন ও গরু মোটাতাজাকরণ দলের একাধিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অভিযোগ ওঠে এসব প্রশিক্ষণে ভূয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নাম ঠিকানা,ফোন নম্বর এবং তথ্য দিয়ে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকার তথ্যানুসারে অনুসন্ধানে উঠে আসে অসংগতি অসংগতি। ব্যবসায় উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় একাধিক ছাগল উৎপাদনকারী দলের প্রশিক্ষণের উপকার ভোগির তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, তালিকার বেশ কিছু নাম্বারে ফোন দিলে বেশিরভাগ নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়া ২০২৩ সালের ৫ আগস্টে বরিশালের সদর উপজেলার কড়াপুর এলাকায় ছাগল উৎপাদনকারী দলের প্রশিক্ষণের তালিকায় নাম থাকা নিলুফার মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে সেটা রিসিভ করেন আরেক নারী। তিনি জানান, এখানে নিলুফা নামে কেউ থাকে না এমনকি এই নাম্বার নিলুফার নয়।
তালিকায় থাকা মিসেস লিপি আরার সঙ্গে কথা বলতে ফোন দিলে ফোনটি রিসিভ করেন শারমিন। তিনি জানান, কড়াপুর নয় তার বাড়ি পশ্চিম চড়াদী। কোনো ধরনের ছাগল উৎপাদনকারী দলের প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত নন তিনি। এমনকি কোনো ধরনের টাকাও পাননি।
এরপর তালিকায় থাকা সাজেদা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে ফোন দিলে তা রিসিভ করেন মাসুমা বেগম। তিনি জানান, কোনো ধরনের ছাগল উৎপাদনকারী দলের প্রশিক্ষণের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। এমনকি তার বাসা কড়াপুর নয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে।
শুধু এই একটি তালিকাই নয় ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল আস্তাকাঠি এলাকায় অনুষ্ঠিত ছাগল উৎপাদনকারী দলের প্রশিক্ষণ ও ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল দক্ষিণ চর আইচা নূতন গরু মোটাতাজাকরণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি দলের প্রশিক্ষণে নামের সঙ্গে ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের অমিল খুঁজে পাওয়া গেছে। যাদের মোবাইল নম্বর আছে তারা কোনোদিন কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রাণী সম্পদ দিয়ে টাকা পায়নি বলেও জানান।
এই প্রশিক্ষণ চলাকালীণ সময় প্রজেক্টের দায়িত্বে ছিলেন ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার জুঁই দত্তের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কাজ করতে এসে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হয় ব্যবসায় উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণের প্রকল্প। শেষ মুহূর্তে তিনি প্রজেক্ট ক্লোজ করতে যখন অডিট হয় তখন উপকার ভোগিদের নামের সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানার যেমন গরমিল পেয়েছেন। তেমনি অনেক ঠিকানায় গিয়ে উপকার ভোগিদের খুঁজে পাননি। ফলে প্রকল্প সমাপ্ত ও অডিট সম্পন্ন করতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। এমনকি পড়তে হয়েছে নানা ভোগান্তিতে।
এদিকে এ সময় প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তালিকা দেখে তিনি সন্দেহ করেনÑ তালিকায় থাকা প্রত্যেকের স্বাক্ষর একই হাতের লেখা। তিনি জানান, বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক। তদন্ত করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
কৃ/স/জয়