গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় টানা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার আমন চাষীদের ধানের বীজতলা। ফলে এই মৌসুমে আমন আবাদ অনেকটা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নতুন করে অনেক কৃষক বীজতলা করলেও তাতে চাষাবাদে যোগহবে বাড়তি উৎপাদন খরচ। এতে কৃষকদেও মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। কৃষকরা এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য সাত হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করেছিলেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলায় ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এরমধ্যে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর বীজতলা। বীজতলাসহ জেলার প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির শাকসবজি পানির নিচে রয়েছে।
জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পযর্ন্ত জমিতে এসব আমনের চারা রোপণ করা। কৃষকরা সেভাবেই সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে একটানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে জেলার অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপরি পানির নিচে রয়েছে।
গাইবান্ধার সবকটি উপজেলা নদীবেষ্টিত। এর মধ্য গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় ছোট-বড় মিলে অন্তত ১৭৫টি চরাঞ্চল রয়েছে। সেগুলো সামন্য বৃষ্টিতে ফসলের জমি পানির নিচে এভাবে তলিয়ে যায়।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল সোবহান মিয়া বলেন, এ বছর প্রায় আট বিঘা জমিতে আমন চাষের পরিকল্পনা ছিল। সেজন্য তিনি প্রায় ২৫ শতাংশ জমির বীজতলা তৈরি করেন। প্রায় ২০-২২ দিনের চারা। জমিতে সার প্রয়োগ করার পরের দিন থেকে বৃষ্টি। এক সপ্তাহ ধরে চারাগুলো পানির নিচে। চারার মাথায় পচন ধরেছে।
পবনাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তিনি ১৫ দিন আগে বীজতলা তৈরি করছিলেন। চারাগুলো কিছুটা বড়ও হয়েছিল। কিন্তু এখন বীজতলায় থই থই পানি।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার অনেক আমন ধানের বীজতলা এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। আমনের চারা আক্রান্ত হয়েছে। তবে বীজতলা থেকে পানি নেমে যাওয়ার পরিচর্যা করলে ক্ষতি কিছুটা কমবে। এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
কৃ/স/জয়