কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ছাতকে চুন কারখানায় বিপন্ন পরিবেশ

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতাঃ 
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওটা প্রায় দুই শতাধিক কারখানায় কাঠ পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হচ্ছে। এসব কারখানায় প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শত শত টন কাঠ। যার ধোঁয়ায় বিপন্ন হয়ে উঠেছে পর্যটন সমৃদ্ধ জেলার পরিবেশ। কারখানাগুলো প্রকাশ্য এই কর্শকান্ড করলেও অজ্ঞাত কারনে পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে নীরব ভূমিকায়। যা নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। 

জেলার ছাতক পৌর এলাকাসহ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় এবং ছাতক-সিলেট ও ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের পাশে অবৈধ অসংখ্যা চুন কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। যা স্থানীয়দেও কাছে পাজু নামে পরিচিত। কিন্তু এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্প এখন স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় দিন দিন এসব অবৈধ পাজুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যত কারখানা রয়েছে, এর অর্ধেকই গত এক বছরে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান,এসব  কারখানায় মাসে দুইবার চুন পোড়ানো হয়। একটি পাজু তৈরিতে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিকের ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। এরপর ভেতরে ৭৫ টন চুনাপাথর সাজিয়ে মাটির প্রলেপ দেয়া হয়। তারপর শুরু হয়ে চুর তৈরির যজ্ঞ। 

ছাতক পৌর শহরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন ,আমাদের এখানে চুন পোড়ানো শুরু হলে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এসব কারখানা যে পরিবেশের দূষণ করছে, তা জানতে গবেষণা লাগবে না। একবার সরজমিনে দেখলেই প্রমান পাওয়া যাবে। 

মাহবুব আলম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এসব কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করে। যা পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হয। এসব কাঠ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে। বন বিভাগ একটু আন্তরিক হলেই এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর একেবারেই উদাসীন।

চুন কারখানা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সালেক মিয়া বলেন,এ ব্যবসা আমাদের ঐতিহ্যবাহী। আমরা স্বীকার করছি এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে বহু মানুষের রুটি-রুজিও জড়িত। তবে আমরা বৈধভাবেই ব্যবসা করতে চাই। এর জন্য পরিবেশের ছাড়পত্র পেতে আবেদন করেছি।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন জানান, সম্প্রতি কারখানা মালিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের নিয়ে এ-সংক্রান্ত একটি সভা হয়েছে। সেখানে কঠোরভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা যাবে না। তাদের সতর্ক করা হয়েছে, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. জসিম উদ্দিন জানান, ‘চুন উৎপাদনে যে অননুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, তাতে বাতাসে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অঙ্াইড নিঃসৃত হচ্ছে। এছাড়া কারখানার পানি ও অন্যান্য বর্জ্যরে সঙ্গে অতিমাত্রায় ক্ষারীয় উপাদান নিঃসৃত হচ্ছে, যা ক্ষয় রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে। কার্বনের বিষে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কারখানা থেকে নির্গত গ্যাস ও ছাই মানবদেহে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা এবং ত্বকের জটিল ব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন,ছাতকে গড়ে ওঠা চুন কারখানা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা কোনো ছাড়পত্র দিইনি। এসব কারখানায় কাঠ যাতে সরবরাহ বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে বন বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া কারখানাগুলোকেও চিঠি দেয়া হয়েছে। এরপরও বন্ধ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১০ বছরে জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর

1

সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে বারোমাসি মরিচ চাষে বাম্পার ফলনে

2

বেহাল কোটি কোটি টাকার পলিনেট হাউস

3

ডাবের শতকোটি টাকার বাণিজ্য

4

কাজিপুরে কাঁঠালের বাম্পার ফলন

5

তরমুজ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন অসিতের

6

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে কঠোর অভিযান চলবে

7

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

8

সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা চলনবিল

9

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ডেউয়া

10

জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

11

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

12

কৃষি বর্জ্য থেকে তৈরি ‘বায়োচার’ হতে পারে সম্ভাবনাময় সমাধান

13

শ্রীমঙ্গলে ময়লার ভাগাড় পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

14

কাজিপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন র‌্যালি ও পুরস্কার বিতরণ

15

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

16

গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু

17

ব্ল্যাক রাইস চাষে মিজানের সফলতা

18

৫০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস

19

কৃষকের সবজিগাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা

20