কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফটিকচড়ির মাঠজুড়ে ক্ষতচিহ্ন


ফটিকছড়ি (চট্রগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্রগ্রামের ফটিকছড়ির রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি থেকে পানি সরে মাঠজুড়ে জেগে উঠেছে বন্যার ক্ষতের চিহ্ন। উপজেলার কোথাও পানিতে পচে গেছে আউশ ধান, কোথাও নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলা। অনেকস্থানে এখনো ডুবে আছে গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। কৃষকরা মাঠে ফিরলেও কিভাবে ক্ষতি কাটিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াবেন এমন চিন্তার ভাজ তাদের কপালে।   

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য মতে, ফটিকছড়িতে মোট ২ হাজার ৪৮০ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ১ হাজার ১৫ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ১ হাজার ৭৫ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ৫৬০ হেক্টর এবং ২ হাজার ৮৪৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ১ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালদা নদীসহ বিভিন্ন খাল উপচে পড়া পানি এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে। কয়েক দিনের জলাবদ্ধতায় ধানের চারা হলুদ হয়ে যায়, অনেক বীজতলা নষ্ট হয় এবং সবজিখেতে পচন ধরে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক জমি থেকে কাদা ও আগাছা সরিয়ে নতুন করে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ বীজতলার জন্য জমি তৈরি করছেন, কেউ আবার নতুন চারা সংগ্রহে ব্যস্ত। তবে বন্যার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অতিরিক্ত খরচের চাপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অধিকাংশ কৃষক।

ফটিকছড়ি বিল এলাকার কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, দুই কানি জমির ধানের চারা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে চাষ করতে হবে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
আরেক কৃষক রশিদ আহমদ বলেন, আমন রোপণের সময় চলে এসেছে। কিন্তু এক সপ্তাহের বন্যায় আমার বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন করে চারা সংগ্রহ করে আবার চাষ শুরু করতে হচ্ছে।

অন্য কৃষকেরা জানান, বন্যার ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের অতিরিক্ত ব্যয় তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তাদের আশা।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। যেসব কৃষকের বীজতলা ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমন মৌসুমে যাতে দ্রুত চাষাবাদ শুরু করা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

1

টেকসই কৃষি গড়তে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা

2

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

3

কাতারের উদ্দেশ্যে স্পিকারের যাত্রা

4

খামারবাড়িতে কর্মকর্তাদের হুমকি ও চাঁদা দাবি শেকৃবি ছাত্রদল ন

5

দেশের ২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ,সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

6

অন্ধকারে ৭২১ কোটির ‘কৃষক স্মার্টকার্ড’ কার্যক্রম

7

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

8

১৯ অঞ্চলে ঝড় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

9

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

10

অবৈধ ইটভাটায় যাচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি

11

সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে বারোমাসি মরিচ চাষে বাম্পার ফলনে

12

কিংস প্যালেসের পিজন স্কোয়ার-মানুষের সঙ্গে কবুতরের বন্ধুত্বপূ

13

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

14

মরুর খেজুর এবার পাবনায়

15

চলনবিলের সরিষার মধুকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দাবি

16

বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের

17

মৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনে ‘ইয়ং ফিশারিজ স্টুডে

18

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

19

মরক্কো থেকে ৮৬৯ কোটি টাকার সার আমদানির করবে সরকার

20