কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

* কৃষি প্রকল্প চলে এনজিও স্টাইলে
* ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কনসালট্যান্ট নিয়োগ

* অডিট নেই, ঋণ কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ 

*সমিতির নামে জমি কিনে বিক্রেতা সেই সমিতির সভাপতি


কৃষি সময় প্রতিবেদক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংকের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) তহবিলে পরিচালিত একটি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের দুই দফার এই প্রকল্পে বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে কনসালট্যান্ট নিয়োগ, মাসিক ভাতা দুই দফায় বাড়িয়ে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা করা, সরকারি অডিট না হওয়া, কৃষক সমিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং টেন্ডার ছাড়া দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগ সামনে এসেছে। সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য জমি কেনা নিয়ে। যে সমিতির নামে জমি কেনা হয়েছে, সেই সমিতির সভাপতিই জমিটির বিক্রেতা। একই ব্যক্তি একদিকে জমির বিক্রেতা, অন্যদিকে জমি গ্রহণকারী সমিতির সভাপতি হওয়ায় ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও সামনে এসেছে।


‘পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন’ নামের প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমও কনসালট্যান্টনির্ভর হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। প্রকল্পটির শুরু থেকে দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ’ প্রকল্পের ডিপিডি ও পরিচালক ছিলেন। অবসরের পরও তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ফোকালপারসনের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যা।  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই তিনি প্রকল্পটির কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পান।ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের একদিন আগে ৪ আগস্ট খামারবাড়ি সড়কে কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে কথিত শান্তি সমাবেশের অন্যতম আয়োজক তখনকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস কোনো নিয়মের বালাই না মেনেই বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাসকে কনসাল্টেন্ট নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাদল চন্দ্র বিশ্বাস যখন খামারবাড়িতে অফিস করতে পারছিলেন না, বাসায় বসেই তিন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই ফ্যাসিবাদী আমলে বিশেষ সুবিধা নেওয়া বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাসকে পুরষ্কৃত করেন। 


কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের পর প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস নিজেই জানিয়েছেন, শুরুতে তার মাসিক ভাতা ছিল ৭৫ হাজার টাকা। পরে তা এক লাখ এবং সর্বশেষ এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক ও ডিএইর দুই ফোকালপারসন এবং কনসালট্যান্টদের বৈঠকের রেজুলেশনের মাধ্যমে ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। মাসিক ভাতার বাইরে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং টিএ-ডিএও গ্রহণ করেন তিনি ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।


প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ দুই দফায় ১৩ কোটি টাকার বেশি। এই অর্থে কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষক সমিতি গঠন, ব্যাংকের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ তৈরি, ঋণ কার্যক্রম এবং দুটি কৃষক সেবা কেন্দ্র নির্মাণের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, ব্যয় ও উপকারভোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্বচ্ছতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে ২০টি কৃষক সমিতি এবং দ্বিতীয় বছরে আরও ৫৮টি সমিতি গঠনের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৮টি সমিতির কথা বলা হলেও অন্য একটি সূত্রের দাবি, বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০টি কৃষক গ্রুপ গঠনের কার্যক্রম চলছে। ফলে প্রকল্পের প্রকৃত সমিতি, সদস্য, উপকারভোগী এবং তাদের পেছনে ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


প্রশিক্ষণ, অবহিতকরণ সভা ও উঠান বৈঠকের মাস্টাররোল নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প অফিস থেকেই মাস্টাররোল তৈরি করে সংশ্লিষ্ট গ্রুপে পাঠানো এবং পরে তা পূরণ করে হেড অফিসে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কয়েকটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের কাছেও প্রকল্পের মেয়াদ, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


ঋণ কার্যক্রম নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠিত কৃষক গ্রুপের সঙ্গে ব্যাংকের সংযোগ তৈরি করে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের সহায়তায় ডিএইর এই প্রকল্পে কনসালট্যান্ট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস ছাড়াও দুইজন বিসিএস ক্যাডার এবং আরো পাঁচজন অস্থায়ী জনবল রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কনসালট্যান্টনির্ভর প্রকল্পটি অনেকটা এনজিওর আদলে পরিচালিত হচ্ছে। কৃষক সমিতিকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার আইনগত ভিত্তি কী—এ প্রশ্নও উঠেছে।


বিষয়টি অনেকটা স্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক ও ডিএইর প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সদ্য সাবেক উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। বর্তমানে ঢাকা কৃষি অঞ্চলে অতিরিক্ত পরিচালকের পদে বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের ঋণ কার্যক্রম অনেকটা এনজিওর মতো। ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষক গ্রুপ পরিদর্শন করেন। প্রকল্পের নথিপত্র ব্যাংকে দেয়া হয় এবং ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাঠে গিয়ে সেগুলো যাচাই করেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ঋণ কার্যক্রম চালু রাখার আগ্রহ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কৃষকদের কাছে কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তরই ডিএইর মূল দায়িত্ব বলে মনে করেন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ। তার মতে, ঋণ দেয়া, ঋণ আদায় বা ঋণ ব্যবস্থাপনা ডিএইর স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ নয়। ভবিষ্যতে ঋণ খেলাপি হলে দায় কার ওপর পড়বে—সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।


প্রকল্পের আওতায় দুটি কৃষক সেবা কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে। এর একটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে তৎকালীন ডিএই মহাপরিচালকের বাড়িতে এবং অন্যটি নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রকল্পে কর্মরত আলম আলীর বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে।
বড়াইগ্রামের বাটরা কুন্ডুপাড়া কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নামে নির্মাণাধীন ভবনটির একতলার কাজ শেষ এবং দ্বিতীয় তলার কাজ চলমান অবস্থায় দেখা গেছে। কোনো টেন্ডার ছাড়াই ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। সম্প্রতি সরেজমিনে সেখানে গিয়ে সমিতির সভাপতি আব্দুল মজিদকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে এবং প্রকল্পে কর্মরত আলম আলী জানান, ভবনটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে হচ্ছে। শুধু প্রকল্পের অর্থে নয়, সমিতির সদস্যদের অর্থও এতে রয়েছে। এ কারণে টেন্ডার ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।


অভিযোগে জানা যায়, শুরুতে জমির দলিল সম্পন্ন না করেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর চলতি বছরের ১৯ মে বড়াইগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ৯৪১/২০২৬ নম্বর সাফ-কবলা দলিল সম্পন্ন করা হয়। দলিল অনুযায়ী, পৌনে চার শতক ধানি জমি এক লাখ ১৮ হাজার টাকা দলিলমূল্যে বিক্রি ও রেজিস্ট্রি করা হয়।
আর এখানেই প্রকল্পটির জমি কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এসেছে। দলিল অনুযায়ী জমিটির বিক্রেতা মো. আব্দুল মজিদ। তিনি প্রকল্পে কর্মরত আলম আলীর বাবা এবং একই সঙ্গে বাটরা কুন্ডুপাড়া কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি। অর্থাৎ যে সমিতির নামে জমিটি কেনা হয়েছে, সেই সমিতির সভাপতিই জমিটির বিক্রেতা। ফলে একই ব্যক্তির বিক্রেতা এবং ক্রেতাপক্ষের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রকল্পের অর্থে একটি স্থাপনা নির্মাণের জন্য জমি কেনার ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি রাখে।


অভিযোগের বিষয়ে ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, কোনো গ্রুপ জায়গা দিতে না পারায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার উদ্যোগে জায়গা খোঁজা হয়। পরে গ্রুপের সভা ও রেজুলেশনের মাধ্যমে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ওই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বর্তমানে এই প্রকল্পের মনিটরিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন।


প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন কেনাকাটায় সিন্ডিকেট করে কেনাকাটা ও সরবরাহের অভিযোগের বিষয়ে ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস দাবি করেন, কোটেশনের মাধ্যমে কাজ হয়েছে। দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য আনুমানিক ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। পিপিপির আওতায় হওয়ায় টেন্ডার ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


তবে প্রকল্পের নির্মাণকাজে সরকারি ক্রয়বিধি কিংবা প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপির বিধান কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। কারণ, দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণে আনুমানিক ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দের মতো ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার বা নির্মাণসংশ্লিষ্ট পক্ষ নির্বাচন করা হয়েছে এবং পিপিপির আওতায় টেন্ডার ছাড়া নির্মাণের অনুমোদন কোথা থেকে এসেছে—এ প্রশ্নের উত্তর প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।


ডিএইর মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, তিনি কয়েকটি এলাকায় প্রকল্পের কৃষক গ্রুপ ও ঋণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেছেন। তার কাছে অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যকর ও ইতিবাচক মনে হয়েছে। ঋণ পরিশোধের হারও প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ বলে জানান তিনি। তবে টেন্ডার ছাড়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবন দুটি কোন প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে, ডিপিপিতে কী ব্যবস্থা ছিল এবং বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা প্রকল্প পরিচালকই বলতে পারবেন।


অন্যদিকে, প্রকল্পটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ও ডিএইর প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সদ্য সাবেক উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের আর্থিক বিষয় ও নথিপত্র ব্র্যাক ব্যাংক দেখে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে গ্রুপগুলোর কার্যক্রম যাচাই ও ক্রসচেক করেন। সরকারি অডিট বিভাগের অডিট হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজস্বের অডিট নাই।’ বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের মতো বিদেশি বা দেশীয় অডিটও এখানে হচ্ছে না বলে জানান তিনি।


একটি সরকারি অধিদফতরের মাধ্যমে পরিচালিত এবং দুই দফায় ১৩ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পাওয়া একটি প্রকল্পে সরকারি অডিট না থাকা, ব্যাংকের নিজস্ব যাচাইকে আর্থিক তদারকির প্রধান অবলম্বন হিসেবে রাখা, কৃষক সমিতির মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা, কনসালট্যান্ট নিয়োগ ও তার ভাতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণে টেন্ডার না হওয়া এবং সমিতির নামে জমি কেনার ক্ষেত্রে সমিতির সভাপতিরই বিক্রেতা হওয়ার ঘটনা—সব মিলিয়ে প্রকল্পটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিধিবিধান অনুসরণের প্রশ্ন সামনে এসেছে।


বিশেষ করে প্রকল্পটির অর্থ সরকারি রাজস্ব থেকে সরাসরি বরাদ্দ না হয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে এলেও বাস্তবায়নে সরকারি অধিদফতর, সরকারি কর্মকর্তা এবং কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কাঠামো যুক্ত রয়েছে। ফলে অর্থের উৎস আলাদা হলেও প্রকল্পের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কোন বিধি প্রযোজ্য, আর্থিক জবাবদিহির কাঠামো কী, সরকারি অডিটের সুযোগ ও বাধ্যবাধকতা কোথায় এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ঋণ কার্যক্রমের দায়-দায়িত্ব কার—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ঋণ কার্যক্রমের সাফল্য ও প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পরিশোধের দাবি থাকলেও প্রকল্পের মোট ঋণ বিতরণ, গ্রাহকের সংখ্যা, খেলাপির পরিমাণ, আদায় প্রক্রিয়া এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এই কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব কার হাতে থাকবে—এসব তথ্যও সামনে আসেনি। একইভাবে ৭৮টি কৃষক সমিতি গঠনের তথ্যের সঙ্গে বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০টি গ্রুপ গঠনের দাবির পার্থক্যও যাচাই প্রয়োজন।


কৃষি উন্নয়নের নামে পরিচালিত একটি প্রকল্পে কৃষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ব্যাংকিং সুবিধার সংযোগ তৈরি করা হলে তার সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নিয়োগ, ভাতা, ঋণ, নির্মাণ, জমি ক্রয়, কেনাকাটা এবং অডিট—প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কাঠামো স্পষ্ট থাকা জরুরি। ‘পার্টনারশিপ ইন ব্র্যাক ব্যাংক-ডিএই কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এখন সেই কাঠামো কতটা কার্যকর ছিল, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুকুরে বিষ দিয়ে ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

1

চাটমোহরে কুকুর হত্যার অভিযোগ

2

দেশীয় রানী মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

3

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি রফিকুল সম্পাদক আসাদুজ্

4

কৃষকদের ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের আহ্বান

5

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত প্লাস্টিকে শ্বাসরুদ্ধ

6

দেশের জমি চাষ করছে ভারতের লোকজন

7

মহেশপুরে রাস্তার পাশে ময়লার ভাগাড়ে ভোগান্তি

8

হর্টিকালচার সেন্টারে চারা-কলমের নতুন মূল্য নির্ধারণ

9

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজারের বেশি পানবরজ

10

সংকটের আশঙ্কায় বিকল্প উৎস থেকে ডিএপি সার আনতে উদ্যোগ

11

ছাতকে চুন কারখানায় বিপন্ন পরিবেশ

12

মাশরুম চাষে মানিকের মাসে আয় লাখ টাকা

13

পুকুরে পাট জাগ দিতে বিঘায় নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা

14

তুর্কি দুম্বা পালনে হাফেজ রাকিবুলের সাফল্য

15

বিষক্রিয়ায় দুই মহিষের মৃত্যু

16

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

17

বাধ্যতামূলক অবসরে সচিব মিয়ান কৃষিতে রেখে গেছেন নিজস্ব বলয়

18

অবৈধভাবে ৬৩৬ বস্তা সার মজুত করায় বিক্রেতার কারাদণ্ড

19

অনাবৃষ্টিতে আমনের জমি ফেটে চৌচির

20