কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগে মাটির উর্বরতা হুমকিতে

চলনবিল সংবাদদাতাঃ 
দেশের অন্যতম বৃহৎ চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠের পর মাঠ জুড়ে চাষাবাদ হয় নানা ধরনের ফসলের। বন্যার পর বাকী সময় বিলাঞ্চলে থাকে নানা ফসলের সমাহার। উর্বও মাটিতে ফসলও হয় বাম্পার। তবে উদ্বেগের বিষয় এসব ফসর উৎপাদন করতে গিয়ে চাষীরা পোকা,মাকড় দমনে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক কিটনাশক ব্যবহার করছেন। যা মাটির স্বাস্থ্য সহ পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। 

কৃষিপ্রধান চলনবিলের তাড়াশ,উল্লাপাড়া সহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় ধানসহ নানা ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় কিংবা ঘন ঘন বালাইনাশক প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করলে মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব, পরিবেশের ভারসাম্য এবং কৃষির স্বাভাবিক উৎপাদনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি কীটনাশকের কার্যকারিতা কমে গেলে কৃষকদের আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে তা প্রয়োগ করতে হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলার উত্তর শ্যামপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, দিন দিন সারের পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে। একদিকে সারের সংকট, অন্যদিকে দাম বেশি। আবার কীটনাশক ব্যবহার না করলেও উপায় নেই। বর্তমানে ধানে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। কীটনাশক না দিলে ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়।

উপজেলার লাউতা গ্রামের কৃষক আশরাফুল বলেন, আগে একবার কীটনাশক দিলেই কাজ হতো, এখন তিনবার দিলেও অনেক ক্ষেত্রে পোকা দমন হচ্ছে না। মাজরা ও ফুতি পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ওয়ানস্টপ, নিডসট, ভিরতাকোসহ বিভিন্ন বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকের খরচ বাড়ছে। জমিতে আগের মতো সাপ, ব্যাঙ, পাখি ও অন্যান্য উপকারী প্রাণীও চোখে পড়ে না। কীটনাশকের ক্ষতির বিষয়টি জানার পরও ধান রক্ষার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। না দিলে ধান ঘরে তুলতে পারব না।

টারোটিয়া গ্রামের কৃষক রাজ্জাক বলেন, জমির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গত বছর মাটির অবস্থা ঠিক রাখতে বিঘাপ্রতি দুই মণ সার দিয়েছি। এবার এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় মণ সার দেওয়া হয়েছে, সামনে আরও দিতে হবে। অতিমাত্রায় কীটনাশক না দিয়েও উপায় দেখছি না। মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত তিনবার কীটনাশক দিয়েছি, আবারও দিতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞদের মতে ,কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। চলনবিলের কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষকদের সচেতনতার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং নিরাপদ কৃষিচর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য, উপকারী জীবাণু ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিরাপদ ও সঠিক নিয়মে বালাইনাশক ব্যবহার করা জরুরি। কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) অনুসরণ, জৈব সার ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ জণ্য তিনি কৃষকদের কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীদের পরার্মশ নেয়ার তাগিদ দেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষকের জমির ধান পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

1

ফুলবাড়ীতে মাল্টার বাম্পার ফলন

2

মাদারীপুরের চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন

3

শখের বাগান থেকে রাখির আয় লাখ টাকা

4

ভেজাল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীকে জরিমানা

5

চাঁদপুরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক সভা

6

পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধ

7

সিরাজগঞ্জে এক জমিতে ৪ সবজির চাষ

8

ছাদ বাগানে শারমিনের আয় ১২ লাখ টাকা

9

পার্টনার প্রকল্পের গতি ফেরাতে মাসিক কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ ন

10

আরডিএর ৫ বছর মেয়াদী বৃক্ষরোপণ

11

বাগেরহাটের ঢেঁড়স চাষীরা হতাশ

12

পটুয়াখালীতে ৫৪ কেজির তবল মাছ ধরা পড়েছে

13

সুনামগঞ্জে হাঁস-মাছ-গরু চাষাবাদে কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে

14

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

15

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

16

বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন চাষীরা

17

লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

18

কচুয়ায় কৃষকের জমির লাউগাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা

19

চলনবিলের সরিষার মধুকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দাবি

20