কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আঙুর চাষে রুহুল আমিনের সাফল্য

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামে আঙুর চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন রুহুল আমিন নামে এক ব্যাংকার ও কৃষি উদ্যোক্তা। ফল এবং গাছের চারা বিক্রি কওে তিনি আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। তার এই সাফল্য জেলায় আঙুর চাষাবাদের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে দুর দুরান্ত থেকে লোজকজন আসছে। এই উদ্যোক্তার বাড়ি জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার গংগারহাট।

জানা যায়, রুহুল আমিন ২০১৭ সালে ইউক্রেন ও রাশিয়ায় থাকা বন্ধুদের মাধ্যমে উন্নত জাতের ৪০টি চারা এনে নিজের জমিতে এর বাগান করেন। শুরুতে এ চাষাবাদ নিয়ে স্থানীয়রা নানা মন্তব্য করেন। তবে নিজের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে তিনি সব মোকাবেলা করেছেন। 
চারা রোপণের মাত্র আট মাস পরই কয়েকটি গাছে আঙুর ধরতে শুরু করে।  এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে ২ বিঘা জমির এই বাগানে ৪৬০টি বাইনুর জাতের আঙুর গাছ রয়েছে। যার প্রতিটি ডালে ডালে এখন শোভা পাচ্ছে থোকা থোকা টুকটুকে লাল বাইকুন জাতের আঙুর। । রুহুল আমীনকে এই কাজে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করেন তাঁর ভাগনে হাসেম আলী।

এমন সাফল্যর পর ক্রমেই বেড়ে চলেছে এই আঙুর বাগানের পরিধি। ২০২২ সালে প্রথম ধাপে মাত্র ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ৫ মণ আঙুর বিক্রি করা হয়। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ মণে,। ২০২৪ সালে ১৫ মণ এবং ২০২৫ সালে চতুর্থ ধাপে ২০ মণ আঙুর বিক্রি হয়। চলতি ২০২৬ সালে এসে সাফল্যের গ্রাফ আরও উঁচুতে উঠেছে। এবার পঞ্চম ধাপে মাত্র ৬০টি আঙুর গাছ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ আঙুর বিক্রির জোর সম্ভাবনা দেখছেন এই দুই উদ্যোক্তা। বিক্রির টাকা থেকে ভালো লাভ হবে বলে আশা তাদের।
বাগানটিতে শুধু বাইনুর জাতই নয়, আরও কিছু বিদেশি জাতের আঙুর এবং তিন শতাধিক দেশি-বিদেশি ফলদ গাছ রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই বিঘা জমির এই বাগানে প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে আঙুর ও চারা বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা ঘরে তুলেছেন তারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকদের কাছে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে শত শত চারা বিক্রি হচ্ছে। 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মাটি ও জলবায়ুতে যে সুস্বাদু লাল আঙুর ফলানো সম্ভব, তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন উদ্যোক্তা রুহুল আমীন। চাকরির পাশাপাশি জমি বর্গা নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন বহুদিনের স্বপ্নের আঙুর বাগান। বিদেশি প্রজাতির ‘বাইনুর’ জাতের লাল আঙুর এখন শুধু ফুলবাড়ী নয়, পুরো জেলায় এক নতুন সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থী, শৌখিন চাষিসহ সাধারণ মানুষ আসছেন এই আঙুর বাগান একনজর দেখতে এবং চারা সংগ্রহ করতে। সেইসঙ্গে তুলছেন সেলফি। জেলাজুড়ে আঙুর চাষের নতুন সম্ভাা তৈরি হয়েছে। 

ওুহুল আমিন জানান,শুরুতে গ্রামের লোকজন আমাকে পাগল বলতো। কিন্তু ফল আসার পর থেকে তারা প্রশংসা করতে শুরু করেছ। আমি এই বাগানের মাধ্যমে ফল এবং চারা বিক্রি করে ভাল টাকা আয় করতে পারছি। আশা করছি আগামীতে আরো ভাল কিছু হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন,বসে না থেকে আপনারা নিজের জায়গায় যে কোন চাষাবাদ শুরু করুন। 

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, রুহুল আমীন ও হাসেম আলী ফুলবাড়ীসহ পুরো কুড়িগ্রাম জেলায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের বাগানের আঙুর যেমন সুস্বাদু, তেমনি ফলনও আশাব্যাঞ্জক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই বাগানকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। 
কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বজ্রপাতে প্রাণ গেলো বাবা ছেলের

1

যশোরের জাপানি পার্সিমনের সাফল্য

2

সাশ্রয়ীমূল্যে সার সরবরাহে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ : সংসদে

3

কাজিপুরে ডিমের হালি ৫০ টাকা!

4

সুন্দরবনে অর্থ সংকটে বন্ধ হচ্ছে নানা প্রকল্প

5

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

6

আগাম শিমে বাড়তি লাভের আশা কৃষকদের

7

জলবায়ু প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর টিকে থাকা কঠিন

8

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই : পরিবেশমন্ত

9

চায়না দুয়ারি জালে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

10

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

11

কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি

12

আখের ভাল ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

13

সীড এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি মাসুম, সম্পাদক সোপান মালিক

14

পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষিমন্ত্রীর সহযোগিত

15

ভবদহে ডুবেছে মাছের ঘের

16

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২২ কেজির ধাতিনা ভোল

17

পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারেও পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

18

মেঘনার স্রোতে ধসে যাচ্ছে ইলিশা ঘাট

19

টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় মূল চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন : কৃষিম

20