কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাঠে মাঠে এবার পাটের ভাল ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে উঠেছে নতুন পাট। উৎপাদন খরচ কিচুটা বাড়লেও বাজারে পাটের চড়া দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে যশোরে ২৫ হাজার ১২৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২০ হাজার ২২৭, মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮, কুষ্টিয়ায় ৪০ হাজার ৩১৫, চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার ১৩৫ ও মেহেরপুরে ২০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।
জানা গেছে, এ অঞ্চলে এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে অনেক কৃষককে সেচের মাধ্যমে পাটবীজ বপন করতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এছাড়া খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেয়ায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সাধারণত জুনের মাঝামাঝিতে পাট কাটা শুরু হয় এবং মাসের শেষ দিকে বাজারে নতুন পাট ওঠা শুরু করে। আগাম পাট বাজারে উঠলেও এখনো বিভিন্ন উপজেলায় চলছে মাঠে মাঠে কৃষকদের পাট কাটা-জাগ দেয়া,ধোয়ার কর্ম ব্যস্ততা।
এ অঞ্চলে পাট কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে আতিকাল থেকে গড়ে উঠেছে একাধিক পাটের মোকাম ও হাট। এখানকার প্রধান পাটের মোকামগুলোর মধ্যে রয়েছে যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, নাভারন ও কেশবপুর। কুষ্টিয়ার কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, দৌলতপুর, পোড়াদহ ও পান্টি। ঝিনাইদহের শৈলকুপা, লাঙ্গলবাঁধ, হাটফাজিলপুর, নাগিরাট, হাটগোপালপুর, কোটচাঁদপুর ও বারোবাজার। । মেহেরপুরের গাংনী, সদর ও মুজিবনগর এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, আলমডাঙ্গা ও সদর বাজার। মাগুরার মহম্মদপুর, শ্রীপুর, নাকোল ও শালিখা। বর্তমানে এসব বাজার আর মোকামে প্রতিদিনই নতুন পাট কেনাবেচা হচ্ছে।
শৈলকুপা মোকামের পাট ব্যবসায়ী নিরঞ্জন শিকদার জানান, নতুন পাটের আমদানি প্রতিদিনই বাড়ছে। স্থানীয় হাট ও মোকাম থেকে পাট সংগ্রহ করে তারা ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর, বগুড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট-বড় পাটকল এবং রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করছেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. কমরুজ্জামান বলেন,এ বছর পাটের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। বাজারে দামও সন্তোষজনক রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান বাজারদরে কৃষক উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভ করতে পারছেন।
কৃ/স/জয়