হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জে ক্যাপসিকাম চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন এক কৃষক। অল্প খরচে এক বিঘা জমিতে এ চাষাবাদ করে তিনি অনেক টাকা আয় করতে পেরেছেন। সফল ওই কৃষকের নাম মাসুম ভুইঁয়া। তিনি জেলার মাধবপুর উপজেলার হরিশ্যামা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, মাসুম মিয়া স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগীতায় তার নিজের এক বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষাবাদ করেন। এ চাষাবাদে তিনি উন্নতমানের চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং সমন্বিত বালাই দমন (আইপিএম) পদ্ধতি অনুসরণ করেন। এতে তার ব্যায় হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সঠিক পরিচর্যা করায় প্রতিটি গাছে ক্যাপসিকাম ধরেছে। ইতোমধ্যে ক্যাসমিক্যাম তুলে বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি আশা করছেন এখান থেকে ২ হাজার ৬শ’থেকে ৩ হাজার ৫শ’কেজি পর্যন্ত ক্যাপসিকাম তুলে বিক্রি করতে পারবেন। এই চাষাবাদে তার সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যাপসিকামে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’ ছাড়াও পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক। কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছেও এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সুবিধাভোগী কৃষক মো. মাসুম ভুইঁয়া বলেন, “কৃষিতে সফল হতে হলে সঠিক দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি। কৃষি বিভাগের তত্ত¡াবধান ছাড়া এমন সফল ক্যাপসিকাম চাষ সম্ভব হতো না। তাঁদের সহযোগিতায় আমরা শুধু লাভবানই হইনি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি।”
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অল্প জমিতেও অধিক ফলন ও লাভ অর্জন সম্ভব। তাঁর পরিকল্পনা ও তদারকিতে প্রকল্পের উপকরণ সঠিকভাবে বিতরণ এবং প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্যাপসিকাম প্রদর্শনীটি সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের একটি সফল ও টেকসই মডেল হিসেবে ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কৃ/স/জয়