কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গোপালগঞ্জের হাসিবের আম যাচ্ছে সারাদেশে


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জে আম বাগান করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন হাসিব  হাসান নামে এক কৃষি উদ্যোক্তা। ৪০ বিঘা জমিতে আম বাগান আর ১২ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। তার বাগের আম যাচ্ছে সারাদেশে। এর মাধ্যমে তিনি আয় করছেন অনেক টাকা। হাসিব  গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জঙ্গলমুকুন্দপুর গ্রামের আবু সাঈদ মৃধা ও হাজেরা পারভীন দম্পতির ছেলে। 

 জানা যায়,২০১৬ সালে বাবার ২ বিঘা জমিতে আম বাগান শুরু করেন। তখন এখানে প্রায় দেড়’শ নানা প্রজাতির আমের চারা লাগান। পাশাপাশি গরুর খামারও করেন। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির বদৌলতে ৫২ বিঘা জমিতে তার বিশাল আম ও কৃষি খামারের পরিধি বৃদ্ধি করেছেন। 

এখানে ৪০ বিঘা জমিতে রয়েছে বিশাল আমবাগান। বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে গরুর খামার। হাসিবের বাগানে রয়েছে আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, বারি-৪, গোপালভোগ ও ব্যানানা জাতের আম। আধুনিক পরিচর্যা ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি বছর আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন উদ্যোক্তা হাসিব।

হাসিবের বাগানের আমের স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের কাছেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছে ‘হাজেরা এগ্রো ফার্মে’ উৎপাদিত আম। এ বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন তিনি। এখনও গাছে বারি-৪ ও আশ্বিনা জাতের আম রয়েছে। এই বাগানে উৎপাদিত সুস্বাদু আম এখন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

উৎপাদন ও বিক্রির পাশাপাশি খামারটির রয়েছে ভিন্ন আকর্ষণ। দর্শনার্থীরা চাইলে বাগানে এসে নিজেদের পছন্দমতো গাছ থেকে আম পেড়ে খেতে এবং কিনে নিতে পারেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসছেন বাগান দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গাছের ছায়ায় বসে উপভোগ করছেন টাটকা পাকা আমের স্বাদ। কৃষি ও প্রকৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘হাজেরা এগ্রো ফার্ম’ এখন নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ পর্যটনের এক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তরুণ উদ্যোক্তা হাসিবের এ উদ্যোগ শুধু তার সাফল্যের গল্প নয়, তরুণদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার নাম।

কৃষি উদ্যোক্তা হাসিব হাসান জানান,ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। বাবার দেওয়া মাত্র দুই বিঘা জমিতে দেড়শ’ আমগাছের চারা ও তিনটি গরু দিয়ে আমি যাত্রা শুরু করি। শুরুতে অনেক প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমার। তবে কৃষির প্রতি ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বর্তমান ৫২ বিঘা জমিজুড়ে আমার আমের বাগান ও খামার বিস্তৃত। 

তিনি বলেন, আমার মায়ের নামে গড়ে তোলা ‘হাজেরা এগ্রো ফার্মে’ নিরাপদ পদ্ধতিতে আম উৎপাদনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বাগান ঘুরে দেখা ও গাছ থেকে আম পেরে খাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় আমাদের বাগানের আম যাচ্ছে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে খামারটিকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারণ করে নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক পর্যটনের একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলব।

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এজাজুল করিম বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা হাসিব হাসান আম চাষের পাশাপাশি নিরাপদ কৃষি উৎপাদন ও কৃষিভিত্তিক পর্যটনের যে সমন্বয় করেছেন, তা প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগে একদিকে যেমন পতিত ও অনাবাদি জমির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।  

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাশরুম চাষে জহিরুলের জীবনের বাঁক বদল

1

কৃষকেরা পাচ্ছেন ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’

2

রঙ্গিন মাছ চাষে ইমনের ভাগ্য বদল

3

সারা দেশে ৬ মাসে ২ কোটির বেশি গাছ রোপণ করেছে সরকার

4

ঢলে ৫শ’ হেক্টর জমির ফসল ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

5

কৃষকদের ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের আহ্বান

6

ঢাকার বর্জ্য না পুড়িয়েই বিদ্যুৎসহ বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মেগা

7

ভেজাল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীকে জরিমানা

8

এক গাছেই ধরেছে ১০ জাতের আম

9

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে বাড়ছে মালচিং চাষাবাদ

10

জেলি মিশ্রিত চিংড়ি বিক্রি ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

11

২৫০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

12

কেঁচো সারে ভাগ্য বদল

13

কচুরিপানায় আটকা ২৭ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ

14

বাম্পার ফলনের পর পাটখড়িতেও লাভবান চাষিরা

15

ব্ল্যাক সুগারকেইন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে

16

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এ্যাবের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

17

২৩টি টিয়া পাখি অবমুক্ত

18

ত্রিশালে জমজমাট পলো উৎসব

19

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

20