নওগাঁ সংবাদাদাতাঃ
মাঠের পর মাঠ আমন ধানগাছ পোকায় আক্রান্ত হয়েছে। পোকার আক্রমন থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা বিভিন্ন কিটনাশক প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এতে ফলনহানির আশঙ্কায় দিশাহারা কৃষকেরা। নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা দিয়েছে এই পোকার আক্রমণ।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নওগাঁর মান্দায় ১৬ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসল। কৃষকেরা স্থানীয় ও উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করে থাকেন। তবে রোগ-পোকার আক্রমণ দেখা দিলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের তদারকি ও কার্যকর পরামর্শের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ ও নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।
উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের খুদিয়াডাঙ্গা, মোটগাড়ি, গাড়িক্ষেত্র, দেলুয়াবাড়ি, মহানগর, পরানপুর ও ভালাইনসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষেতে পোকার আক্রমণে ফসলের ক্ষতি লক্ষ করা গেছে।
মান্দা উপজেলার গাড়িক্ষেত্র এলাকার চাষী আশরাফুল ইসলাম জানান,ধানগাছ বেশ ভালই হয়েছিলো। তবে হঠাৎ করে পোকার আক্রমন হয়েছে। আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। এখন গাছ মারা যেতে শুরু করেছে।
উপজেলার গণেশপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান,পোকার আক্রমনে পুরো জমির ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা নানা ধরনের কিটনাশক প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। কৃষি বিভাগের লোকজনও আমাদের মাঠে আসছে না। আমরা নিজেরা দোকানীদের সাতে কথা বলে কিটনাশক প্রয়োক করছি। এমন অবস্থা থাকলে এই চাষাবাদে আমরা চরম ক্ষতির শিকার হবো।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, সারসংকট নিয়ে অফিসের সবাই ব্যস্ত ছিলেন। তারপরও আমার কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে উঠান বৈঠক, পরামর্শ ও তদারকি করছেন।
কৃ/সজয়