কেরানীগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
মাশরুম চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে রাজিব আহম্মেদ নামে এক যুবক। মাত্র ৩৬ টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ এখন বাণিজ্যিক খামারে রূপ নিয়েছে। যা থেকে এখন তিনি প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকারও বেশি আয় করে নিজের বেকারত্ব দুর করেছেন। সফল এই উদ্যোক্তার বাড়ি । ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের গেজুরবাগ এলাকায়।
জানা যায়, এই উদ্যোক্তা ইউটিউবে মাশরুম চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে আগ্রহী হন। পরে সাভারের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতেই পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু করেন। মাত্র দুটি স্পন (বীজ) কিনে চাষ শুরু করলেও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার অভিজ্ঞতা ও উৎপাদন। বর্তমানে নিজেই কাঠের গুঁড়া, খড়, বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে মাশরুমের স্পন প্যাকেট তৈরি করছেন। তার খামারে এখন প্রায় চার হাজারের বেশি স্পন রয়েছে। কঠিন পরিশ্রম আর নিজের মেধা দিযে তিনি এই কাজে পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা।
বর্তমানে তার খামারে উৎপাদিত মাশরুম পাইকারি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা এবং খুচরা ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রেতার কাছেও সরবরাহ করছেন এ পণ্য। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। যার মাধ্যমে নিজের সংসারের অভাব হটিয়ে তিনি সচ্ছল স্বাভলম্বী হয়ে উঠেছেন।
রাজিবের এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক তরুণ মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ তার খামার পরিদর্শন করছেন, আবার অনেকে চাষাবাদ সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন। বেকার যুবকদের কাছে মাশরুম চাষ এখন সম্ভাবনাময় একটি আয়ের উৎস হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মাশরুম চাষের উদ্যোক্তা রাজিব আহমেদ বলেন, শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ধৈর্য ধরে কাজ করায় এখন ভালো ফল পাচ্ছি। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচর্যা করলেই মাশরুমের ভালো উৎপাদন পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন বলেন, মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য। এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং এটি অনেক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে। স্বল্প জায়গা ও কম পুঁজিতে মাশরুম চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
কৃ/স/জয়